দিনাজপুরে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি, এক ঘণ্টায় ফসল-ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
ফুলবাড়ী উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টার টানা শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় অন্তত ৯–১০টি গ্রামের প্রায় শতভাগ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলার সীমান্তবর্তী এলুয়াড়ী ইউনিয়নের জলপাইতলী, পানিকাটা, জগন্নাথপুর, উষাহার, জোয়ার ও খাজাপুরসহ কয়েকটি গ্রামে এই দুর্যোগে অপরিপক্ক বোরো ধান, ভুট্টা, আম, লিচু, শাকসবজি ও পশুখাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিটি শিলার ওজন ছিল প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম, যা টিনের চালা ছিদ্র করে দিয়েছে এবং গাছপালা সম্পূর্ণভাবে ঝরে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধু এলুয়াড়ী ইউনিয়নেই প্রায় ১,৫২৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বোরো ধানই প্রায় ১,৫০০ হেক্টর। এছাড়া ভুট্টা, শাকসবজি, আম, কলা, পেঁপে, লিচুসহ অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, বোরো ধানে শীষ আসার সময় এই দুর্যোগে ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। টিনের ঘরবাড়িও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকের মতে, এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনো দেখা যায়নি।
ঘটনার পর রাতে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেন।

এলুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা নবিউল ইসলাম বলেন, এক ঘণ্টার শিলাবৃষ্টিতে ১০টির বেশি গ্রামের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে—এখন জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইউএনও আহমেদ হাছান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















