সুন্দরবনে দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশে কঠোর নজরদারি
২৩ বছরে ২৭ বার আগুন, পুড়েছে শতাধিক একর বনভূমি!
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
শুষ্ক মৌসুমে অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে এবার কঠোর অবস্থানে বন বিভাগ। প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রবেশপথে বিড়ি-সিগারেটসহ যেকোনো দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বনসংলগ্ন এলাকায় পোস্টার, হ্যান্ডবিল বিতরণ, আলোচনা সভা ও সতর্কতামূলক মাইকিং চালানো হচ্ছে।
বন বিভাগ বলছে, শুষ্ক সময়ে সামান্য অসতর্কতাই বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই আগেভাগেই নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা, উত্তর রাজাপুর ও দক্ষিণ রাজাপুর; মোরেলগঞ্জের জিউধারা ও নিশানবাড়িয়া; এবং মোংলা উপজেলার জিউধরা, চিলা, জয়মুনি ও কপিলমুনির প্রবেশপথে জেলে, বাওয়ালী ও স্থানীয়দের দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
টহল জোরদার, আইনগত ব্যবস্থা সতর্কবার্তা
অগ্নিকাণ্ডের বেশিরভাগ ঘটনার পেছনে মানুষের অসচেতনতা বা দুর্বৃত্তের সংশ্লিষ্টতা থাকে—এমন তথ্য বন বিভাগের তদন্তে উঠে এসেছে। তাই প্রচারণার পাশাপাশি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত ২৩ বছরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে ২৭ বার অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক একর বনভূমি পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

স্থানীয়দের সমর্থন
শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর ভোলারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন তাদের জীবন-জীবিকার উৎস। “যেখান থেকে আয় না করলে সংসার চলে না, সেখানে ক্ষুদ্র স্বার্থে আগুন লাগানো মানে নিজেদের ভবিষ্যৎ পুড়িয়ে ফেলা। বন বিভাগের উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি। কেউ নিষেধাজ্ঞা না মানলে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত,”—যোগ করেন তিনি।
বন বিভাগের বক্তব্য
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বাংলা টাইমসকে বলেন, গত দুই দশকে অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। “এবার প্রতিরোধেই জোর দিচ্ছি। প্রতিদিন মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ চলছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া বন রক্ষা সম্ভব নয়। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আগের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একশ্রেণির স্থানীয় দুর্বৃত্ত চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এবার যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রবেশপথে নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।
অস্তিত্ব সংকটে বিশ্ব ঐতিহ্য
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী বন জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে উপকূলীয় জনপদের প্রধান ঢাল। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করলেও বারবার অগ্নিকাণ্ড, লোভ-লালসা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে হুমকির মুখে পড়ছে বনের জীববৈচিত্র্য ও বননির্ভর মানুষের জীবন।
কর্তৃপক্ষের আশা—সচেতনতা, কড়াকড়ি ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণ মিলিয়ে এ শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনকে অগ্নিকাণ্ডমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।





















