বরাদ্দ কম, ইসলামপুরে ঈদ সহায়তা সংকটে হাজারো পরিবার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
দুর্যোগপ্রবণ ও নদীভাঙনকবলিত ইসলামপুর উপজেলা-এ আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এতে প্রায় ৩৩ হাজার অসচ্ছল পরিবার ঈদের খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে দুস্থ, অতিদরিদ্র, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, প্রতিবন্ধী ও কর্মহীন পরিবারগুলোকে ঈদসহ বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। তবে চলতি ঈদুল ফিতরে ইসলামপুরে বরাদ্দ আগের তুলনায় অনেক কম এসেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ঈদুল আজহায় ইসলামপুরে ৪৬ দশমিক ৬১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল। এতে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৪৬ হাজার ৬১০টি পরিবার সহায়তা পেয়েছিল। অথচ এবার বরাদ্দ এসেছে ১৩৮ দশমিক ৩৪০ মেট্রিক টন চাল, যা সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হবে। ফলে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩২ হাজার ২২৭টি পরিবার সহায়তার বাইরে থেকে যাবে।
ইসলামপুর যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের বেষ্টিত একটি দরিদ্র ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, জনসংখ্যা, দরিদ্রতার হার ও দুর্যোগঝুঁকি বিবেচনায় এখানে বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে বরাদ্দ উল্টো কমে যাওয়ায় হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে ইউনিয়নগুলোতে।
গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারী বলেন, গত বছর তার ইউনিয়নে ৫ হাজার ৯৩টি কার্ড ছিল, এবার তা নেমে এসেছে প্রায় চার ভাগের একভাগে। এভাবে দরিদ্র মানুষের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়।
চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানান, তার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত বছর ৪ হাজার ৩১৭টি কার্ড থাকলেও এবার এসেছে মাত্র ১ হাজার ২৯৭টি।
বেলগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, তার ইউনিয়নে গত বছর ৩ হাজার ৪৩৭টি কার্ড ছিল, এবার বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩২টি। কুলকান্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হলেও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা. নূর-এ শেফা বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারের জন্য ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ হয়েছে, যা উপজেলার চাহিদার তুলনায় কম। কেন বরাদ্দ কম এসেছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ আই সুলতান মাহমুদ বলেন, বিষয়টি তিনি সদ্য জেনেছেন এবং দরিদ্র মানুষের স্বার্থে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভিজিএফ বরাদ্দ পুনর্বিবেচনা করা না হলে নদীভাঙন ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হাজারো পরিবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।





















