ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন

ইউনূসের প্রেসসচিবের আক্রোশের শিকার বঙ্গভবনের প্রেস উইং

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাংবাদিকদের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিবের আক্রোশের শিকার হয় বঙ্গভবনের প্রেস উইং—এমন অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে বঙ্গভবনে কার্যকর কোনো প্রেস উইং নেই বলেও তিনি জানান।

গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁকে অপমান ও একঘরে করে রাখার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে প্রেস উইং কার্যত অচল করে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি জানান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-র নির্বাচনে বিজয়ের পর নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাতে বঙ্গভবনে আসেন। সাংবাদিকবান্ধব মানুষ হিসেবে তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর ভাষায়, সেটি ছিল একটি সাধারণ সাক্ষাৎ—সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা ও একটি ফটোসেশনের মধ্যেই শেষ হয়।

কিন্তু পরদিন কয়েকটি পত্রিকায় ছবি-সহ খবর প্রকাশিত হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি বলে দাবি করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর জোর করে খোঁজা শুরু হয় বঙ্গভবনের প্রেস উইংয়ের কে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। রাষ্ট্রপতির দাবি, প্রেস উইংয়ের কেউই এতে সম্পৃক্ত ছিলেন না; সাংবাদিকদের চিঠি পেয়ে তিনি নিজেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

তবে এরপর প্রেস সেক্রেটারি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারিসহ তিনজনকে একযোগে প্রত্যাহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘ ৩০ বছর দায়িত্ব পালন করা দুইজন ফটোগ্রাফারকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে পুরো প্রেস উইং কার্যত ভেঙে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে বঙ্গভবন থেকে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি জাতীয় ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতলেও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি সাধারণ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি পরিস্থিতিকে “পুরোপুরি প্রতিবন্ধী করে দেওয়া” বলে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও এস্টাবলিশমেন্ট সেক্রেটারির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি। তাঁর অভিযোগ, জনগণের কাছে তাঁর উপস্থিতি সীমিত রাখতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির দাবি, জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্রে তাঁর ছবি ও বাণী প্রকাশ বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত দেড় বছরে তাঁর কোনো বাণী রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। রাষ্ট্রপতির দপ্তর বা বঙ্গভবন কেবল আনুষ্ঠানিক বাসভবন নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী প্রেস উইংয়ের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড, বক্তব্য ও বাণী জনগণ ও গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই রাষ্ট্রপ্রধানের প্রেস উইং সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। প্রতিবেদন : কালের কন্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন

ইউনূসের প্রেসসচিবের আক্রোশের শিকার বঙ্গভবনের প্রেস উইং

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাংবাদিকদের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিবের আক্রোশের শিকার হয় বঙ্গভবনের প্রেস উইং—এমন অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে বঙ্গভবনে কার্যকর কোনো প্রেস উইং নেই বলেও তিনি জানান।

গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁকে অপমান ও একঘরে করে রাখার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে প্রেস উইং কার্যত অচল করে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি জানান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-র নির্বাচনে বিজয়ের পর নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাতে বঙ্গভবনে আসেন। সাংবাদিকবান্ধব মানুষ হিসেবে তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর ভাষায়, সেটি ছিল একটি সাধারণ সাক্ষাৎ—সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা ও একটি ফটোসেশনের মধ্যেই শেষ হয়।

কিন্তু পরদিন কয়েকটি পত্রিকায় ছবি-সহ খবর প্রকাশিত হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি বলে দাবি করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর জোর করে খোঁজা শুরু হয় বঙ্গভবনের প্রেস উইংয়ের কে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। রাষ্ট্রপতির দাবি, প্রেস উইংয়ের কেউই এতে সম্পৃক্ত ছিলেন না; সাংবাদিকদের চিঠি পেয়ে তিনি নিজেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

তবে এরপর প্রেস সেক্রেটারি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারিসহ তিনজনকে একযোগে প্রত্যাহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘ ৩০ বছর দায়িত্ব পালন করা দুইজন ফটোগ্রাফারকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে পুরো প্রেস উইং কার্যত ভেঙে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে বঙ্গভবন থেকে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি জাতীয় ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতলেও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি সাধারণ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি পরিস্থিতিকে “পুরোপুরি প্রতিবন্ধী করে দেওয়া” বলে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও এস্টাবলিশমেন্ট সেক্রেটারির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি। তাঁর অভিযোগ, জনগণের কাছে তাঁর উপস্থিতি সীমিত রাখতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির দাবি, জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্রে তাঁর ছবি ও বাণী প্রকাশ বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত দেড় বছরে তাঁর কোনো বাণী রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। রাষ্ট্রপতির দপ্তর বা বঙ্গভবন কেবল আনুষ্ঠানিক বাসভবন নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী প্রেস উইংয়ের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড, বক্তব্য ও বাণী জনগণ ও গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই রাষ্ট্রপ্রধানের প্রেস উইং সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। প্রতিবেদন : কালের কন্ঠ