বগুড়া-৬ আসন: জিয়া পরিবারের তিন নারী প্রার্থী আলোচনায়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুইটি আসনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-১৭ রেখে বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
রাজনৈতিক গুঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে এইবার জিয়া পরিবারের তিন নারী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, তাদের কন্যা জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান।
বগুড়া-৬ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এখানে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, সেটি শুধু একটি সাধারণ উপ-নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং সরকারের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এছাড়া প্রার্থী তালিকায় নাম আলোচনায় রয়েছে সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, এবং জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, “বগুড়া-৬ শুধু একটি সাধারণ আসন নয়, এটা দলের ঐতিহ্যের অংশ। চেয়ারম্যান আসন ছেড়ে দিয়েছেন, তাই এখানে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তিনিই উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকেই জানানো হবে।”
ঐতিহাসিকভাবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি বারবার জয়লাভ করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেননি, ২০১৮ সালের নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হন, তবে শপথ নেননি। এরপর ২০১৯ সালের উপ-নির্বাচনে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল মোমিন বলেন, “সরকার গঠনের পর এটি হবে প্রথম উপ-নির্বাচন। এখানে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা দেখেই বোঝা যাবে বিএনপি কোন ধরনের নেতৃত্ব সামনে আনতে চায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই আসন ছেড়েছেন, তাই যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কার্যত সরকারের মুখ হিসেবেই বিবেচিত হবেন।”
সংক্ষেপে, বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন জিয়া পরিবারের প্রার্থী সম্ভাবনার ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করছে এবং দলীয় কৌশল ও নেতৃত্বের দিক নির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
























