ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদেশে অর্থপাচারে জড়িত সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি এআই দ্বারা নির্মিত

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সদ্য বিদায়ী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, গত দেড় বছরে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও প্রভাব ব্যবহার করে বিপুল অর্থ অর্জন ও বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তার স্ত্রী শীলা আহমেদ, যিনি আর্থিক লেনদেনের প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন বলে দাবী করা হচ্ছে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত দেড় বছরে নিয়োগ-বাণিজ্য, মামলা থেকে অব্যাহতি এবং প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে, বিশেষ করে দুবাই ও সুইজারল্যান্ডে। এছাড়া, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় ৭০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ড. আসিফ নজরুল প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার মাধ্যমে ৬ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, যা স্ত্রী ও শাশুড়ির নামে সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, অগ্নিসংযোগ, অরাজকতা সৃষ্টি এবং পুলিশের ক্ষয়ক্ষতি সহ আরও গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, তহবিলের অপচয় এবং সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ, জলবায়ু ও সংস্কৃতি খাতে উপদেষ্টাদেরও বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ড. আসিফ নজরুল বা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সরকার বা দুর্নীতি দমন সংস্থা এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের সত্যতা জানা সম্ভব নয়।

গোয়েন্দা সূত্র ও প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, ধ্বংসযজ্ঞের ‘প্রথম সর্বনাশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে। ‘বিহারি’ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্রমতে, গত ১৮ মাসে তিনি অবৈধভাবে ১৪ হাজার কোটি টাকা আয় করেছেন।

সরকারের দুই উপদেষ্টা ও মার্কিন নাগরিক ড. আলী রীয়াজ ও মনির হায়দারের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, গণভোট আয়োজনের নামে আলী রীয়াজ ৩০০ কোটি টাকা লোকসান করেছেন। অন্যদিকে সংবিধান সংশোধনের নামে আরেক মার্কিন নাগরিক মনির হায়দারকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের ২ হাজার কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রিজওয়ানা হাসান ও তাঁর স্বামী মিলে গত ১৮ মাসে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের ৪ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া জলবায়ু তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নদী ভরাট না করেই লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী গণভবনে ‘কল্পকাহিনী’ তৈরি করে জাদুঘর নির্মাণ এবং ড্রোন শো আয়োজনের নামে বিপুল অর্থ হাতিয়েছেন। তার ভাই ও স্ত্রী এসব ব্যবসার নেপথ্যে ছিলেন বলে দাবি করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিদেশে অর্থপাচারে জড়িত সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সদ্য বিদায়ী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, গত দেড় বছরে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও প্রভাব ব্যবহার করে বিপুল অর্থ অর্জন ও বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তার স্ত্রী শীলা আহমেদ, যিনি আর্থিক লেনদেনের প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন বলে দাবী করা হচ্ছে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত দেড় বছরে নিয়োগ-বাণিজ্য, মামলা থেকে অব্যাহতি এবং প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে, বিশেষ করে দুবাই ও সুইজারল্যান্ডে। এছাড়া, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় ৭০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ড. আসিফ নজরুল প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার মাধ্যমে ৬ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, যা স্ত্রী ও শাশুড়ির নামে সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, অগ্নিসংযোগ, অরাজকতা সৃষ্টি এবং পুলিশের ক্ষয়ক্ষতি সহ আরও গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, তহবিলের অপচয় এবং সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ, জলবায়ু ও সংস্কৃতি খাতে উপদেষ্টাদেরও বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ড. আসিফ নজরুল বা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সরকার বা দুর্নীতি দমন সংস্থা এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের সত্যতা জানা সম্ভব নয়।

গোয়েন্দা সূত্র ও প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, ধ্বংসযজ্ঞের ‘প্রথম সর্বনাশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে। ‘বিহারি’ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্রমতে, গত ১৮ মাসে তিনি অবৈধভাবে ১৪ হাজার কোটি টাকা আয় করেছেন।

সরকারের দুই উপদেষ্টা ও মার্কিন নাগরিক ড. আলী রীয়াজ ও মনির হায়দারের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, গণভোট আয়োজনের নামে আলী রীয়াজ ৩০০ কোটি টাকা লোকসান করেছেন। অন্যদিকে সংবিধান সংশোধনের নামে আরেক মার্কিন নাগরিক মনির হায়দারকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের ২ হাজার কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রিজওয়ানা হাসান ও তাঁর স্বামী মিলে গত ১৮ মাসে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের ৪ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া জলবায়ু তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নদী ভরাট না করেই লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী গণভবনে ‘কল্পকাহিনী’ তৈরি করে জাদুঘর নির্মাণ এবং ড্রোন শো আয়োজনের নামে বিপুল অর্থ হাতিয়েছেন। তার ভাই ও স্ত্রী এসব ব্যবসার নেপথ্যে ছিলেন বলে দাবি করা হয়।