রমজানের আগে ক্ষমতা হস্তান্তর, দ্রুত সরকার গঠনের বার্তা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এবং ১৭–১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘোষণা শুধু প্রশাসনিক সময়সূচি নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের রাজনৈতিক তাৎপর্য
নির্বাচনের পর দীর্ঘ অনিশ্চয়তা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিতে চাইছে। এতে
সরকারের বৈধতা দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হবে, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, রাজনৈতিক উত্তেজনা বা অনিশ্চয়তা কমবে।
বিশেষ করে রমজানের আগে নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে জনসেবা, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক
বাংলাদেশে রমজানকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যের দাম, সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে। নতুন সরকার সময়মতো দায়িত্ব নিলে—
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ, আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত, ব্যবসায়ী ও বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি হতে পারে। ফলে এই সময়সূচি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া: কীভাবে এগোবে
ঘোষণা অনুযায়ী ধাপগুলো হবে—
নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ (১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে), নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ, সংসদ গঠন, প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ। এই দ্রুত প্রক্রিয়া নির্বাচন-পরবর্তী প্রশাসনিক শূন্যতা কমাবে।
রাজনৈতিক বার্তা
আসিফ নজরুলের বক্তব্যে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট—অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনকে সময়মতো সম্পন্ন করে দ্রুত নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাইছে। এটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে রাজনৈতিক আস্থার বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
১৭–১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠনের পরিকল্পনা শুধু একটি সময়সূচি নয়; এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার কৌশলগত পদক্ষেপ। দ্রুত ও সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরই এখন নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।






















