২০ বছর পর বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা: রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১৩টিতে জয় পেয়ে দলটি এককভাবেই সরকার গঠনের সাংবিধানিক সীমা (১৫১) অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে ৬৮টি আসন নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।
এই ফলাফল দেশের রাজনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্ষমতার পালাবদল ও রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তন
২০০১ সালের পর এই প্রথম বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল। দীর্ঘ সময়ের বিরোধী রাজনীতি, আন্দোলন ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পর দলটির এই বিজয়কে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার কাঠামো বদলে যাওয়ায় ভোটের সমীকরণে বিএনপি প্রধান বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পেরেছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের পরীক্ষা
এই নির্বাচনের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো তারেক রহমানের সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে অভিষেক এবং দুটি আসনে বিজয়। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণ এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে এখন প্রশাসনিক দক্ষতা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আন্দোলনের রাজনীতি থেকে শাসনের রাজনীতিতে রূপান্তর—এটাই হবে তার নেতৃত্বের প্রধান পরীক্ষা।
প্রথমবার শক্তিশালী বিরোধী হিসেবে জামায়াত
৬৮টি আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এবার প্রথমবারের মতো সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় আসছে। অতীতে জোটনির্ভর রাজনীতির অংশ থাকলেও এবার স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে তাদের উপস্থিতি সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। কার্যকর বিরোধী ভূমিকা, নীতিগত অবস্থান এবং সংসদে সক্রিয়তা—এসবের ওপর তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।
ছোট দল ও স্বতন্ত্রদের সীমিত প্রভাব
জাতীয় নাগরিক পার্টি (৬) এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্যদের (১১) সীমিত উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জাতীয় রাজনীতি আবার বড় দুই শক্তির বাইরে নতুন শক্তির বিস্তারের সুযোগ এখনও সীমিত।
সামনে যে চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার পরিবেশ বজায় রাখা, অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন নিশ্চিত করা, বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর সংসদ পরিচালনা।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একদিকে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে, অন্যদিকে সরকার–বিরোধী উভয় ক্ষেত্রেই নতুন নেতৃত্ব ও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ফলে আগামী সময়টি হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং নীতিনির্ধারণের কার্যকারিতা—এই তিনটির ওপর নির্ভরশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়।























