ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চার–ছক্কার দাপটে বৈভবের রেকর্ডময় সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন ভারতের কিশোর বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৫৫ বলে সেঞ্চুরি করে চার–ছক্কার দাপটে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ একপ্রকার গুঁড়িয়ে দেন ১৪ বছর বয়সী এই ব্যাটার। হারারেতে তার ব্যাট থেকে ছুটে আসা ছক্কার বৃষ্টিতে এক পর্যায়ে বল স্টেডিয়ামের বাইরেও হারিয়ে যায়।

সেমিফাইনালে হাফসেঞ্চুরির পর ফাইনালে এসে সেঞ্চুরি করে ভারতের অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন বৈভব। তার বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করেই ফাইনালে বড় রানের স্বপ্ন দেখছে ভারত।

হারারেতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি করা ওপেনার অ্যারন জর্জ এদিন ব্যর্থ হলেও ইনিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে ও বৈভব। শুরুতে কিছুটা সতর্ক ছিলেন বৈভব। ২৩ বলে তার রান ছিল মাত্র ২৪। তবে এরপরই গিয়ার বদলান তিনি।

ইংল্যান্ডের বোলার জেমস মিন্টোর এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় নেন ১৮ রান। সেখান থেকেই তাণ্ডব শুরু। ৩২ বলে পূর্ণ করেন হাফসেঞ্চুরি। এরপর স্পিনার ফারহান আহমেদের ওপর চড়াও হয়ে এক ওভারে হাঁকান তিনটি ছক্কা, যার একটি সরাসরি স্টেডিয়ামের বাইরে গিয়ে পড়ে।

ক্রমাগত বাউন্ডারিতে দ্রুত সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে যান বৈভব। এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন শতক। এরপর মাত্র ১৬ বলেই দেড়শ স্পর্শ করেন তিনি। রালফি অ্যালবার্টের এক ওভারে নেন ২৭ রান—তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। তখন কার্যত দিশেহারা ইংল্যান্ডের বোলাররা, গ্যালারিতে বসা কোচদের চোখে হতাশা।

ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা তৈরি হলেও ৮০ বলে ১৭৫ রানে থামে বৈভবের ইনিংস। ম্যানি লুমসডেনের ব্যাক অব দ্য লেংথ বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ইনিংসজুড়ে মারেন ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা।

আউট হওয়ার পর বিপক্ষ ক্রিকেটারদের হাততালি এবং গ্যালারিভর্তি দর্শকের দাঁড়িয়ে অভিনন্দনই বলে দেয়—এটি ছিল অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস। বৈভব সূর্যবংশীর এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ক্রিকেটবিশ্ব তাক লেগে দেখল, আর ভারত পেল শিরোপার পথে বিশাল এক আত্মবিশ্বাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চার–ছক্কার দাপটে বৈভবের রেকর্ডময় সেঞ্চুরি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন ভারতের কিশোর বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৫৫ বলে সেঞ্চুরি করে চার–ছক্কার দাপটে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ একপ্রকার গুঁড়িয়ে দেন ১৪ বছর বয়সী এই ব্যাটার। হারারেতে তার ব্যাট থেকে ছুটে আসা ছক্কার বৃষ্টিতে এক পর্যায়ে বল স্টেডিয়ামের বাইরেও হারিয়ে যায়।

সেমিফাইনালে হাফসেঞ্চুরির পর ফাইনালে এসে সেঞ্চুরি করে ভারতের অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন বৈভব। তার বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করেই ফাইনালে বড় রানের স্বপ্ন দেখছে ভারত।

হারারেতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি করা ওপেনার অ্যারন জর্জ এদিন ব্যর্থ হলেও ইনিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে ও বৈভব। শুরুতে কিছুটা সতর্ক ছিলেন বৈভব। ২৩ বলে তার রান ছিল মাত্র ২৪। তবে এরপরই গিয়ার বদলান তিনি।

ইংল্যান্ডের বোলার জেমস মিন্টোর এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় নেন ১৮ রান। সেখান থেকেই তাণ্ডব শুরু। ৩২ বলে পূর্ণ করেন হাফসেঞ্চুরি। এরপর স্পিনার ফারহান আহমেদের ওপর চড়াও হয়ে এক ওভারে হাঁকান তিনটি ছক্কা, যার একটি সরাসরি স্টেডিয়ামের বাইরে গিয়ে পড়ে।

ক্রমাগত বাউন্ডারিতে দ্রুত সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে যান বৈভব। এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন শতক। এরপর মাত্র ১৬ বলেই দেড়শ স্পর্শ করেন তিনি। রালফি অ্যালবার্টের এক ওভারে নেন ২৭ রান—তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। তখন কার্যত দিশেহারা ইংল্যান্ডের বোলাররা, গ্যালারিতে বসা কোচদের চোখে হতাশা।

ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা তৈরি হলেও ৮০ বলে ১৭৫ রানে থামে বৈভবের ইনিংস। ম্যানি লুমসডেনের ব্যাক অব দ্য লেংথ বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ইনিংসজুড়ে মারেন ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা।

আউট হওয়ার পর বিপক্ষ ক্রিকেটারদের হাততালি এবং গ্যালারিভর্তি দর্শকের দাঁড়িয়ে অভিনন্দনই বলে দেয়—এটি ছিল অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস। বৈভব সূর্যবংশীর এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ক্রিকেটবিশ্ব তাক লেগে দেখল, আর ভারত পেল শিরোপার পথে বিশাল এক আত্মবিশ্বাস।