দুর্নীতির ডাল নয়, ঘাড় ধরে টান দেব: জামায়াত আমির

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতির পাতা বা ডাল নয়, সরাসরি ঘাড় ধরে টান দেব—ইনশাআল্লাহ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর এক বৃহৎ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলাই জামায়াতের লক্ষ্য। বড় দুর্নীতিবাজ, গডফাদার কিংবা মাফিয়ারা আইনের বাইরে থাকবে—এমন বৈষম্য জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ছোট অপরাধীর শাস্তি হবে, অথচ বড় অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে—এই সংস্কৃতি ভেঙে দেওয়া হবে।
চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, তবে দলের কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজিতে জড়াবে না এবং কাউকেও এতে যুক্ত হতে দেওয়া হবে না।
বিগত সরকারের সময়কার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক, বিমা ও মেগা প্রকল্পের নামে বিপুল অর্থ লুট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা একাধিক জাতীয় বাজেটের সমান। তিনি বলেন, এই অর্থ ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ এবং তা ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের অন্যতম নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে শীর্ষ নেতাদের প্রাণ হারাতে হয়েছে, হাজারো কর্মী নিহত ও পঙ্গু হয়েছেন। দীর্ঘদিন দলীয় কার্যালয় বন্ধ রাখা এবং জামায়াত ও ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ করার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে যাবে না। তবে শহীদ পরিবার ও নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।
নারীর মর্যাদা ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেকার ভাতা নয়—যুবকদের হাতে সম্মানজনক কাজ তুলে দেওয়া হবে। নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
বরিশাল অঞ্চলের নদীভাঙন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীশাসনের নামে লুটপাট নয়, টেকসই নদী সংস্কার প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন হলে আগামী এক দশকে এ অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে।
জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য দলীয় বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। রাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ নাগরিক—আইনের চোখে সবাই সমান হবে এমন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



















