সাত সকালে স্বর্ণের দামে বড় পতন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
টানা দুই দফা দাম বৃদ্ধির পর ফের দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন এলো। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক মূল্য ওঠানামা দেখলে প্রশ্ন ওঠে—এটি কি বাজারে স্থিতিশীলতার সূচনা, নাকি সাময়িক সমন্বয় মাত্র?
ঘন ঘন সমন্বয়: অস্থির বাজারের প্রতিচ্ছবি
চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে—এর মধ্যে ১৬ বার দাম বেড়েছে, কমেছে ৯ বার। গত বছর (২০২৫) এই সংখ্যা ছিল আরও বেশি; মোট ৯৩ বার সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তন মূলত বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম, ডলারের বিনিময় হার, স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ এবং আমদানি ব্যয়—এই চারটি বিষয় মিলেই মূলত দেশের স্বর্ণবাজারকে প্রভাবিত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা সংশোধন এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের দাম কমার প্রভাবই এই দরপতনের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
দাম কমলেও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি খুব বেশি নেই। কারণ, ভরিতে দাম এখনো আড়াই লাখ টাকার ওপরে। ফলে বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণ কেনা অনেকের কাছেই বিলাসে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমলে বিক্রি কিছুটা বাড়ে ঠিকই, তবে ঘন ঘন ওঠানামার কারণে ক্রেতারা সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়েন।
রুপার বাজারেও একই প্রবণতা
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। চলতি বছর রুপার দামও ১৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয়—মূল্য অস্থিরতা শুধু স্বর্ণেই সীমাবদ্ধ নয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো অস্থিরতা না এলে স্বর্ণের দাম স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা আমদানি ব্যয় বাড়লে আবারও দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সাত সকালে স্বর্ণের দামে বড় পতন আপাতদৃষ্টিতে স্বস্তির খবর হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারে স্থায়ী ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়—এমনটা এখনই বলা কঠিন। বরং ঘন ঘন সমন্বয়ই বলে দিচ্ছে, দেশের স্বর্ণবাজার এখনো অস্থিরতার মধ্যেই রয়েছে।




















