ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে নতুন প্রাণঘাতী রিওভাইরাস,সতর্কতা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে নতুনভাবে একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার নাম রিওভাইরাস (অর্থোরিওভাইরাস)। গবেষণায় দেখা গেছে, ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই ভাইরাসের উপস্থিতি প্রথমবার দেশে ধরা পড়েছে, এবং ইতিমধ্যে পাঁচজনের শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একজন ২০২৪ সালে মারা গেছেন।

ভাইরাস শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক উপসর্গ

রিওভাইরাস আক্রান্ত রোগীরা ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্নায়বিক সমস্যার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিকভাবে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ করা হলেও পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ আসে। পরবর্তী বিশ্লেষণে তারা প্টেরোপাইন অর্থোরিওভাইরাস (PRV) এ আক্রান্ত ছিলেন, যা বাদুড়বাহিত।

সংক্রমণের উৎস ও সম্ভাব্য ঝুঁকি

গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচজন রোগীর মধ্যে সবাই অসুস্থ হওয়ার আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। বাদুড় শীতকালে খেজুর খেয়ে থাকে, তাই কাঁচা খেজুরের রস মানুষের কাছে ভাইরাস পৌঁছানোর মাধ্যম হতে পারে। নিপাহ ভাইরাসের মতোই রিওভাইরাসও মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে এবং তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

পদ্মা নদীর অববাহিকার আশেপাশে ধরা পড়া বাদুড়ের মধ্যে ভাইরাসের জিনগত মিল পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে মানুষের সংক্রমণ প্রকৃতপক্ষে বাদুড়ের মাধ্যমে ঘটতে পারে।

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ভাইরাসের জিনগত কাঠামোয় রিঅ্যাসর্টমেন্ট বা পুনর্বিন্যাস ঘটার কারণে এর সংক্রমণ ক্ষমতা ও রোগ সৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে থাকতে পারে। গবেষণায় ভিরক্যাপসেক-ভার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত পিসিআর পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। এভাবে প্রায় সম্পূর্ণ ভাইরাস জিনোম বিশ্লেষণ ও ভাইরাস কালচার করা সম্ভব হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ও প্রতিরোধ

নতুন ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই একমাত্র সমাধান। বিশেষজ্ঞরা কাঁচা খেজুরের রস, আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া যেসব এলাকায় কাঁচা খেজুরের রস ব্যবহৃত হয়, সেখানে শ্বাসতন্ত্রের রোগ পরীক্ষা ও রিওভাইরাসসহ অন্যান্য বাদুড়বাহিত ভাইরাস পরীক্ষা জরুরি।

বাংলাদেশে রিওভাইরাস শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ন কারণ এটি নতুন, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং প্রাথমিকভাবে এর সংক্রমণ উৎস স্পষ্টভাবে বাদুড় ও কাঁচা খেজুরের রস। এটি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা, বিশেষ করে শীতকালীন সময়ে ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশে নতুন প্রাণঘাতী রিওভাইরাস,সতর্কতা জরুরি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে নতুনভাবে একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার নাম রিওভাইরাস (অর্থোরিওভাইরাস)। গবেষণায় দেখা গেছে, ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই ভাইরাসের উপস্থিতি প্রথমবার দেশে ধরা পড়েছে, এবং ইতিমধ্যে পাঁচজনের শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একজন ২০২৪ সালে মারা গেছেন।

ভাইরাস শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক উপসর্গ

রিওভাইরাস আক্রান্ত রোগীরা ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্নায়বিক সমস্যার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিকভাবে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ করা হলেও পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ আসে। পরবর্তী বিশ্লেষণে তারা প্টেরোপাইন অর্থোরিওভাইরাস (PRV) এ আক্রান্ত ছিলেন, যা বাদুড়বাহিত।

সংক্রমণের উৎস ও সম্ভাব্য ঝুঁকি

গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচজন রোগীর মধ্যে সবাই অসুস্থ হওয়ার আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। বাদুড় শীতকালে খেজুর খেয়ে থাকে, তাই কাঁচা খেজুরের রস মানুষের কাছে ভাইরাস পৌঁছানোর মাধ্যম হতে পারে। নিপাহ ভাইরাসের মতোই রিওভাইরাসও মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে এবং তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

পদ্মা নদীর অববাহিকার আশেপাশে ধরা পড়া বাদুড়ের মধ্যে ভাইরাসের জিনগত মিল পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে মানুষের সংক্রমণ প্রকৃতপক্ষে বাদুড়ের মাধ্যমে ঘটতে পারে।

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ভাইরাসের জিনগত কাঠামোয় রিঅ্যাসর্টমেন্ট বা পুনর্বিন্যাস ঘটার কারণে এর সংক্রমণ ক্ষমতা ও রোগ সৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে থাকতে পারে। গবেষণায় ভিরক্যাপসেক-ভার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত পিসিআর পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। এভাবে প্রায় সম্পূর্ণ ভাইরাস জিনোম বিশ্লেষণ ও ভাইরাস কালচার করা সম্ভব হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ও প্রতিরোধ

নতুন ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই একমাত্র সমাধান। বিশেষজ্ঞরা কাঁচা খেজুরের রস, আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া যেসব এলাকায় কাঁচা খেজুরের রস ব্যবহৃত হয়, সেখানে শ্বাসতন্ত্রের রোগ পরীক্ষা ও রিওভাইরাসসহ অন্যান্য বাদুড়বাহিত ভাইরাস পরীক্ষা জরুরি।

বাংলাদেশে রিওভাইরাস শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ন কারণ এটি নতুন, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং প্রাথমিকভাবে এর সংক্রমণ উৎস স্পষ্টভাবে বাদুড় ও কাঁচা খেজুরের রস। এটি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা, বিশেষ করে শীতকালীন সময়ে ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।