ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেষ সময়ে প্রতিরক্ষা চুক্তি: প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে দেশের প্রতিরক্ষা খাত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের দিকে এগিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান চীনের সঙ্গে ড্রোন কারখানা স্থাপন, পাকিস্তান ও চীন থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে হেলিকপ্টার ক্রয়সহ একাধিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে “চলমান প্রক্রিয়া” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপট

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মূলতঃ:

চীনের সঙ্গে G2G চুক্তিতে ড্রোন কারখানা স্থাপন। পাকিস্তান থেকে JF-17 থান্ডার ও চীন থেকে J-10 C/E যুদ্ধবিমান ক্রয়। ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে Eurofighter Typhoon যুদ্ধবিমান।

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন ক্রয়। তুরস্ক থেকে T129 অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে Black Hawk মাল্টিরোল হেলিকপ্টার। দেশীয় যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ। জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্তকরণের চেষ্টা।

ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই চুক্তিগুলো ভবিষ্যৎ সরকারের অনুমোদন ছাড়া বন্ধ হবে না, তবে এগুলো হাইপোথেটিক্যাল পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, পরবর্তী সরকার এগুলো অগ্রসর না করলে প্রকল্পের গতি কমতে পারে বা পুনঃমূল্যায়ন হতে পারে।

রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক

অন্তর্বর্তী সরকারের এই চুক্তি কার্যক্রম কয়েকটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ:

প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ: নতুন যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা সমীকরণ: চীন, জাপান, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক স্থাপন বা শক্তিশালীকরণ।

ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য দায়িত্ব: যেহেতু চুক্তিগুলো চলমান প্রক্রিয়া, তাই পরবর্তী সরকার এগুলো এগিয়ে নিতে বা পরিবর্তন করতে পারবে।

ড. খলিলুর রহমানের মন্তব্য “চলমান প্রক্রিয়া” দিয়ে বোঝাচ্ছে, চুক্তি শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রস্তুতির অংশ, নয় কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি। এটি রাজনৈতিক স্বচ্ছন্দতা ও সম্ভাব্য বিতর্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যও বহন করে। দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক আধুনিকীকরণের দিক থেকে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নির্বাচনের পরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে এগুলো পুনঃমূল্যায়ন হতে পারে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে বড় উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এগুলো মূলত চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্ধারণ করবে। এটি দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত সমীকরণে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শেষ সময়ে প্রতিরক্ষা চুক্তি: প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে দেশের প্রতিরক্ষা খাত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের দিকে এগিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান চীনের সঙ্গে ড্রোন কারখানা স্থাপন, পাকিস্তান ও চীন থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে হেলিকপ্টার ক্রয়সহ একাধিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে “চলমান প্রক্রিয়া” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপট

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মূলতঃ:

চীনের সঙ্গে G2G চুক্তিতে ড্রোন কারখানা স্থাপন। পাকিস্তান থেকে JF-17 থান্ডার ও চীন থেকে J-10 C/E যুদ্ধবিমান ক্রয়। ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে Eurofighter Typhoon যুদ্ধবিমান।

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন ক্রয়। তুরস্ক থেকে T129 অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে Black Hawk মাল্টিরোল হেলিকপ্টার। দেশীয় যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ। জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্তকরণের চেষ্টা।

ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই চুক্তিগুলো ভবিষ্যৎ সরকারের অনুমোদন ছাড়া বন্ধ হবে না, তবে এগুলো হাইপোথেটিক্যাল পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, পরবর্তী সরকার এগুলো অগ্রসর না করলে প্রকল্পের গতি কমতে পারে বা পুনঃমূল্যায়ন হতে পারে।

রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক

অন্তর্বর্তী সরকারের এই চুক্তি কার্যক্রম কয়েকটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ:

প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ: নতুন যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা সমীকরণ: চীন, জাপান, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক স্থাপন বা শক্তিশালীকরণ।

ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য দায়িত্ব: যেহেতু চুক্তিগুলো চলমান প্রক্রিয়া, তাই পরবর্তী সরকার এগুলো এগিয়ে নিতে বা পরিবর্তন করতে পারবে।

ড. খলিলুর রহমানের মন্তব্য “চলমান প্রক্রিয়া” দিয়ে বোঝাচ্ছে, চুক্তি শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রস্তুতির অংশ, নয় কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি। এটি রাজনৈতিক স্বচ্ছন্দতা ও সম্ভাব্য বিতর্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যও বহন করে। দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক আধুনিকীকরণের দিক থেকে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নির্বাচনের পরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে এগুলো পুনঃমূল্যায়ন হতে পারে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে বড় উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এগুলো মূলত চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্ধারণ করবে। এটি দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত সমীকরণে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করেছে।