ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৯টি আসনে ধানের শীষ নেই, বিএনপির কৌশল!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ৯টিতে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ থাকবে না। বিষয়টি প্রকাশ করেছে দলীয় সূত্র। এর পেছনে দুইটি প্রধান কারণ ধরা যায়—দীর্ঘমেয়াদি মিত্রশক্তি সমন্বয় এবং মনোনয়নপত্র বাতিল।

মিত্রশক্তিকে ক্ষমতা প্রদানের কৌশল

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট মিত্র দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত। এবার নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তারা এই জোটশক্তির স্বার্থে ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। মূলত জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ এবং বিএনপি–বিজেপি এই আসনগুলোর নেতৃত্ব পেয়েছে।

জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম চারটি আসন পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জোটের অন্যান্য দলকে দেওয়া হয়েছে।

এই কৌশল বিএনপির জন্য দুটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ:

১. জোট শক্তিকে দৃঢ় করা এবং ভোটারদের কাছে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বার্তা পৌঁছানো।

২. ধানের শীষকে বিতর্ক বা স্থানীয় বিরোধিতার কারণে নির্বাচনী ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা।

মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থানীয় প্রভাব

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র আদালতের মাধ্যমে বাতিল হওয়ায় সেখানে ধানের শীষের উপস্থিতি নেই। এটি নির্দেশ করছে, কেন্দ্রীভূত দলীয় পরিকল্পনা কখনও কখনও স্থানীয় বা আইনি জটিলতার কারণে ব্যাহত হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

১. ভোটারের কাছে বিভ্রান্তি: ৯টি আসনে ধানের শীষের অনুপস্থিতি কিছু ভোটারের জন্য বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে স্থানীয় সমন্বয় ও প্রচারণা যথাযথ হলে এ প্রভাব কমানো সম্ভব।

২. জোট শক্তির স্বীকৃতি: ধানের শীষের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বিএনপি শুধুমাত্র নিজের শক্তি নয়, মিত্র দলের ক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি জোটের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সম্মিলিত প্রচারণাকে শক্তিশালী করবে।

৩. আইনি প্রভাব: মনোনয়নপত্র বাতিল স্থানীয় স্তরে ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির অনুপস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য সুবিধাজনক।

নির্বাচন কমিশন ও আদালতের প্রভাব, জোটশক্তির সমন্বয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা—এসবের মধ্যে সমন্বয় করে বিএনপি এই ৯টি আসনে ধানের শীষের অনুপস্থিতি সামলাচ্ছে। এটি কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং জোট রাজনীতির গুরুত্ব ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দৃষ্টান্ত।

সর্বশেষ, নির্বাচনের ফলাফল এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়েছে তা স্পষ্ট করবে। তবে আগাম পর্যালোচনা অনুযায়ী, ধানের শীষের অনুপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা জোটশক্তিকে সচেতন প্রচারণা চালাতে বাধ্য করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

৯টি আসনে ধানের শীষ নেই, বিএনপির কৌশল!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ৯টিতে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ থাকবে না। বিষয়টি প্রকাশ করেছে দলীয় সূত্র। এর পেছনে দুইটি প্রধান কারণ ধরা যায়—দীর্ঘমেয়াদি মিত্রশক্তি সমন্বয় এবং মনোনয়নপত্র বাতিল।

মিত্রশক্তিকে ক্ষমতা প্রদানের কৌশল

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট মিত্র দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত। এবার নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তারা এই জোটশক্তির স্বার্থে ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। মূলত জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ এবং বিএনপি–বিজেপি এই আসনগুলোর নেতৃত্ব পেয়েছে।

জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম চারটি আসন পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জোটের অন্যান্য দলকে দেওয়া হয়েছে।

এই কৌশল বিএনপির জন্য দুটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ:

১. জোট শক্তিকে দৃঢ় করা এবং ভোটারদের কাছে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বার্তা পৌঁছানো।

২. ধানের শীষকে বিতর্ক বা স্থানীয় বিরোধিতার কারণে নির্বাচনী ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা।

মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থানীয় প্রভাব

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র আদালতের মাধ্যমে বাতিল হওয়ায় সেখানে ধানের শীষের উপস্থিতি নেই। এটি নির্দেশ করছে, কেন্দ্রীভূত দলীয় পরিকল্পনা কখনও কখনও স্থানীয় বা আইনি জটিলতার কারণে ব্যাহত হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

১. ভোটারের কাছে বিভ্রান্তি: ৯টি আসনে ধানের শীষের অনুপস্থিতি কিছু ভোটারের জন্য বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে স্থানীয় সমন্বয় ও প্রচারণা যথাযথ হলে এ প্রভাব কমানো সম্ভব।

২. জোট শক্তির স্বীকৃতি: ধানের শীষের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বিএনপি শুধুমাত্র নিজের শক্তি নয়, মিত্র দলের ক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি জোটের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সম্মিলিত প্রচারণাকে শক্তিশালী করবে।

৩. আইনি প্রভাব: মনোনয়নপত্র বাতিল স্থানীয় স্তরে ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির অনুপস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য সুবিধাজনক।

নির্বাচন কমিশন ও আদালতের প্রভাব, জোটশক্তির সমন্বয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা—এসবের মধ্যে সমন্বয় করে বিএনপি এই ৯টি আসনে ধানের শীষের অনুপস্থিতি সামলাচ্ছে। এটি কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং জোট রাজনীতির গুরুত্ব ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দৃষ্টান্ত।

সর্বশেষ, নির্বাচনের ফলাফল এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়েছে তা স্পষ্ট করবে। তবে আগাম পর্যালোচনা অনুযায়ী, ধানের শীষের অনুপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা জোটশক্তিকে সচেতন প্রচারণা চালাতে বাধ্য করবে।