ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগাছা থেকে ২২ হাজার টাকার আয়, আলোচনায় কৃষক জাহাঙ্গীর

ওসমান গনি, চান্দিনা (কুমিল্লা)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চান্দিনা উপজেলার বড়গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম আলুর ক্ষেতে জন্মানো আগাছা থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। ১২ শতাংশ জমিতে আলুচাষের পাশাপাশি জন্মানো বথুয়া শাক বিক্রি করে তিনি ইতোমধ্যে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন।

জানা গেছে, আলু চাষের পর সময়মতো আগাছানাশক ব্যবহার না করায় তার জমিতে প্রচুর বথুয়া শাক জন্মে। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় পড়লেও পরে বাজারে এ শাকের চাহিদা ও দাম দেখে তা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, জমির মাত্র আট ভাগের এক ভাগ জায়গা থেকে শাক সংগ্রহ করে কুমিল্লার নিমসার বাজারে বিক্রি করেন তিনি। এতে তিনি পান ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এতে উৎসাহিত হয়ে বাকি শাক বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো জমির শাক বিক্রি করলে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হবে। তিনি বলেন, “মূল ফসল আলু এখনও মাটির নিচে। আলু ওঠার আগেই এ টাকা পেয়ে আমি সত্যিই খুশি। এটা আমার জন্য বাড়তি আয়।”

অন্যদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করে বলছেন, আগাছা বেশি হলে মূল ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চান্দিনা পৌর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, “আগাছা অতিরিক্ত হলে তা মাটির পুষ্টি উপাদান শোষণ করে আলুর ফলন কমিয়ে দিতে পারে। তাই দ্রুত শাক সংগ্রহ করে জমি পরিষ্কার করা জরুরি।”

তিনি আরও জানান, এখন আলুচাষে সেচ, সার প্রয়োগ এবং গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়ার মতো কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, বাজারে বিষমুক্ত ও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো শাকের চাহিদা বাড়ায় এমন শাক থেকে অতিরিক্ত আয় সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক জাহাঙ্গীরের ‘ভুল’ যেন আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, “আগাছানাশক না দেওয়ায় এমন হয়েছে। কিন্তু এতে যে এত টাকা আয় হবে, তা ভাবিনি। এই টাকা দিয়ে পরবর্তী মৌসুমের কাজে লাগাতে পারব।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও বাজারের চাহিদা বুঝে আলুর সাথে পাশাপাশি শাকসহ অন্যান্য উপজাত থেকেও কৃষকের বাড়তি আয় সম্ভব। তবে মূল ফসল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আগাছা থেকে ২২ হাজার টাকার আয়, আলোচনায় কৃষক জাহাঙ্গীর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

চান্দিনা উপজেলার বড়গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম আলুর ক্ষেতে জন্মানো আগাছা থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। ১২ শতাংশ জমিতে আলুচাষের পাশাপাশি জন্মানো বথুয়া শাক বিক্রি করে তিনি ইতোমধ্যে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন।

জানা গেছে, আলু চাষের পর সময়মতো আগাছানাশক ব্যবহার না করায় তার জমিতে প্রচুর বথুয়া শাক জন্মে। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় পড়লেও পরে বাজারে এ শাকের চাহিদা ও দাম দেখে তা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, জমির মাত্র আট ভাগের এক ভাগ জায়গা থেকে শাক সংগ্রহ করে কুমিল্লার নিমসার বাজারে বিক্রি করেন তিনি। এতে তিনি পান ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এতে উৎসাহিত হয়ে বাকি শাক বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো জমির শাক বিক্রি করলে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হবে। তিনি বলেন, “মূল ফসল আলু এখনও মাটির নিচে। আলু ওঠার আগেই এ টাকা পেয়ে আমি সত্যিই খুশি। এটা আমার জন্য বাড়তি আয়।”

অন্যদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করে বলছেন, আগাছা বেশি হলে মূল ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চান্দিনা পৌর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, “আগাছা অতিরিক্ত হলে তা মাটির পুষ্টি উপাদান শোষণ করে আলুর ফলন কমিয়ে দিতে পারে। তাই দ্রুত শাক সংগ্রহ করে জমি পরিষ্কার করা জরুরি।”

তিনি আরও জানান, এখন আলুচাষে সেচ, সার প্রয়োগ এবং গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়ার মতো কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, বাজারে বিষমুক্ত ও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো শাকের চাহিদা বাড়ায় এমন শাক থেকে অতিরিক্ত আয় সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক জাহাঙ্গীরের ‘ভুল’ যেন আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, “আগাছানাশক না দেওয়ায় এমন হয়েছে। কিন্তু এতে যে এত টাকা আয় হবে, তা ভাবিনি। এই টাকা দিয়ে পরবর্তী মৌসুমের কাজে লাগাতে পারব।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও বাজারের চাহিদা বুঝে আলুর সাথে পাশাপাশি শাকসহ অন্যান্য উপজাত থেকেও কৃষকের বাড়তি আয় সম্ভব। তবে মূল ফসল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তারা।