ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

উপজেলা চেয়ারম্যান হতে চেয়েছিলেন ড্রাইভার আবেদ আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪ ২৯২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিএসসির ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী জীবন। এক সময়ে তার বাবা-মা ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। মাত্র ৮ বছর বয়সে জীবিকার তাগিদে পারি জমিয়েছিলেন ঢাকায়। এরপর সদরঘাটে কুলির কাজ করতেন। একসময় ফুটপথে ঘুমিয়ে নিদারুন কষ্ট করছেন তিনি। এরপর গাড়ি চালনা শিখে চাকুরী নেন পিএসসিতে। তারপর জড়িয়ে পড়েন পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সাথে। অর্জন করেছেন বিপুল সম্পদ। সাথে ক্ষমতাও। চেয়েছিলেন ডাসার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে প্রচার প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম বেতলা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মীরের ছেলে সৈয়দ আবেদ আলী জীবন। আব্দুর রহমান মীরের তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সৈয়দ আবেদ আলী জীবন মেজ। রহমান মীরের বড় ছেলে জবেদ আলী কৃষি কাজ করেন। ছোট ছেলে সাবেদ আলী এখনও এলাকায় অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের ভাই সৈয়দ আবেদ আলী জীবন। শিল্পপতি হিসেবে এলাকায় তিনি মানুষের কাছে পরিচয় দিতেন। আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম চড়তেন দামী গাড়িতে।

Madaripur

এলাকায় কেউ জানতো না তিনি ড্রাইভারের চাকুরী করে। তিনি ঢাকাতে রিয়েল স্টেট ব্যবসা করতে বলেই এলাকায় প্রচার ছিলো। কয়েক বছর থেকে এলাকায় ব্যাপক দান খয়রাত করতেন।

সৈয়দ আবেদ আলী জীবন তার গ্রামের বাড়ীতে কোটি টাকা খরচ করে বিলাসবহুল বাড়ী নির্মাণ করেছেন। বাড়ীর পাশে করেছেন মসজিদ। এছাড়াও সরকারি জায়গা দখল করে গরুর খামার ও মার্কেট নির্মাণাধীন। উপজেলার পান্তাপাড়া ও পূর্ব বোতলা গ্রামের কিনেছেন বিপুল সম্পদ।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকায়ও তার একাধিক বাড়ী রয়েছে। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা রয়েছে তার থ্রি স্টর হোটেল। সামান্য একজন ড্রাইভার থেকে হঠাৎ করে বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়ায় তার সম্পর্কে জানার কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি) ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযুক্তদের একজন সৈয়দ আবেদ আলী জীবন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আবেদ আলী মীরের বাবা-মা এক সময়ে খয়রাত করতেন। এখন আবেদন আলী অনেক বড় হয়েছেন। অর্থবিত্ত হয়েছেন। এলাকায় অনেক দান খয়রাত দেন। কিন্তু কিভাবে এত টাকা পয়সা তিনি করেছেন তার কিছুই তারা জানতেন না। তবে এলাকার মানুষের জন্য আবেদ আলী অনেক কিছু করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মাদারীপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, কেউ অভিযোগ করলে আমরা প্রধান কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

উপজেলা চেয়ারম্যান হতে চেয়েছিলেন ড্রাইভার আবেদ আলী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

পিএসসির ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী জীবন। এক সময়ে তার বাবা-মা ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। মাত্র ৮ বছর বয়সে জীবিকার তাগিদে পারি জমিয়েছিলেন ঢাকায়। এরপর সদরঘাটে কুলির কাজ করতেন। একসময় ফুটপথে ঘুমিয়ে নিদারুন কষ্ট করছেন তিনি। এরপর গাড়ি চালনা শিখে চাকুরী নেন পিএসসিতে। তারপর জড়িয়ে পড়েন পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সাথে। অর্জন করেছেন বিপুল সম্পদ। সাথে ক্ষমতাও। চেয়েছিলেন ডাসার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে প্রচার প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম বেতলা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মীরের ছেলে সৈয়দ আবেদ আলী জীবন। আব্দুর রহমান মীরের তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সৈয়দ আবেদ আলী জীবন মেজ। রহমান মীরের বড় ছেলে জবেদ আলী কৃষি কাজ করেন। ছোট ছেলে সাবেদ আলী এখনও এলাকায় অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের ভাই সৈয়দ আবেদ আলী জীবন। শিল্পপতি হিসেবে এলাকায় তিনি মানুষের কাছে পরিচয় দিতেন। আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম চড়তেন দামী গাড়িতে।

Madaripur

এলাকায় কেউ জানতো না তিনি ড্রাইভারের চাকুরী করে। তিনি ঢাকাতে রিয়েল স্টেট ব্যবসা করতে বলেই এলাকায় প্রচার ছিলো। কয়েক বছর থেকে এলাকায় ব্যাপক দান খয়রাত করতেন।

সৈয়দ আবেদ আলী জীবন তার গ্রামের বাড়ীতে কোটি টাকা খরচ করে বিলাসবহুল বাড়ী নির্মাণ করেছেন। বাড়ীর পাশে করেছেন মসজিদ। এছাড়াও সরকারি জায়গা দখল করে গরুর খামার ও মার্কেট নির্মাণাধীন। উপজেলার পান্তাপাড়া ও পূর্ব বোতলা গ্রামের কিনেছেন বিপুল সম্পদ।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকায়ও তার একাধিক বাড়ী রয়েছে। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা রয়েছে তার থ্রি স্টর হোটেল। সামান্য একজন ড্রাইভার থেকে হঠাৎ করে বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়ায় তার সম্পর্কে জানার কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি) ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযুক্তদের একজন সৈয়দ আবেদ আলী জীবন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আবেদ আলী মীরের বাবা-মা এক সময়ে খয়রাত করতেন। এখন আবেদন আলী অনেক বড় হয়েছেন। অর্থবিত্ত হয়েছেন। এলাকায় অনেক দান খয়রাত দেন। কিন্তু কিভাবে এত টাকা পয়সা তিনি করেছেন তার কিছুই তারা জানতেন না। তবে এলাকার মানুষের জন্য আবেদ আলী অনেক কিছু করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মাদারীপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, কেউ অভিযোগ করলে আমরা প্রধান কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করবো।