ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজায় ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, মাঠে থাকবে সোয়াট-বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে রাজধানীতে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পূজামণ্ডপের নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হবে সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত সভায় এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ।

মহালয়া থেকে বিসর্জন পর্যন্ত নজরদারি

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ কারণে উৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে ডিএমপি।

মহালয়া থেকে শুরু করে পূজা ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত রাজধানীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিটি মণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। পাশাপাশি মণ্ডপের ইনচার্জরা শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিট

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসব ইউনিট মাঠে থাকবে।

পূজা কমিটিকেও সক্রিয় থাকার আহ্বান

ডিএমপি কমিশনার পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের নিজ নিজ মণ্ডপের নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পূজা কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের ওপরও নজর রাখতে হবে। কোনো ধরনের সন্দেহজনক ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।

জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধও জানান তিনি।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও বিশেষ পরিকল্পনা

সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সার্বজনীন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

পূজা কমিটির নেতারা মণ্ডপের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ডিএমপির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলামসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।

ডিএমপি কমিশনার আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, আনন্দঘন, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দুর্গাপূজায় ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, মাঠে থাকবে সোয়াট-বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে রাজধানীতে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পূজামণ্ডপের নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হবে সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত সভায় এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ।

মহালয়া থেকে বিসর্জন পর্যন্ত নজরদারি

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ কারণে উৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে ডিএমপি।

মহালয়া থেকে শুরু করে পূজা ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত রাজধানীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিটি মণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। পাশাপাশি মণ্ডপের ইনচার্জরা শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিট

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসব ইউনিট মাঠে থাকবে।

পূজা কমিটিকেও সক্রিয় থাকার আহ্বান

ডিএমপি কমিশনার পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের নিজ নিজ মণ্ডপের নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পূজা কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের ওপরও নজর রাখতে হবে। কোনো ধরনের সন্দেহজনক ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।

জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধও জানান তিনি।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও বিশেষ পরিকল্পনা

সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সার্বজনীন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

পূজা কমিটির নেতারা মণ্ডপের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ডিএমপির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলামসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।

ডিএমপি কমিশনার আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, আনন্দঘন, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে।