ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসি পদায়ন থেকে টেন্ডার বাণিজ্য, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা লেনদেন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক জানিয়েছে, নতুন করে পাওয়া অভিযোগটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় আগের চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধান করা হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

ডিসি পদায়ন থেকে টেন্ডার বাণিজ্য—যেসব অভিযোগ

তানজির আহমেদ বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

দুদকের সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়, হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস এবং গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে।

পর্তুগাল, দুবাই ও সুইস ব্যাংকেও বিনিয়োগের অভিযোগ

সংস্থাটির সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে। দুই বোনজামাই ও ভাগনের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।

আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন অভিযোগ

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

নতুন অভিযোগের বিষয়ে দুদকের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। রোববার দুপুরে তিনি লেখেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

‘মিডিয়া ট্রায়াল’ নিয়ে আপত্তি আসিফের

এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দুদকের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। গত বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

পরে তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান। গত বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই নোটিশে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

গত শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, ২ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে দুদক কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তাঁর অভিযোগ, কোনো তদন্তের ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের কারণে তাঁকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন ধারণা জনমনে তৈরি হওয়ার সুযোগ হয়েছে এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডিসি পদায়ন থেকে টেন্ডার বাণিজ্য, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা লেনদেন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক জানিয়েছে, নতুন করে পাওয়া অভিযোগটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় আগের চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধান করা হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

ডিসি পদায়ন থেকে টেন্ডার বাণিজ্য—যেসব অভিযোগ

তানজির আহমেদ বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

দুদকের সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়, হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস এবং গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে।

পর্তুগাল, দুবাই ও সুইস ব্যাংকেও বিনিয়োগের অভিযোগ

সংস্থাটির সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে। দুই বোনজামাই ও ভাগনের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।

আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন অভিযোগ

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

নতুন অভিযোগের বিষয়ে দুদকের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। রোববার দুপুরে তিনি লেখেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

‘মিডিয়া ট্রায়াল’ নিয়ে আপত্তি আসিফের

এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দুদকের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। গত বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

পরে তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান। গত বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই নোটিশে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

গত শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, ২ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে দুদক কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তাঁর অভিযোগ, কোনো তদন্তের ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের কারণে তাঁকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন ধারণা জনমনে তৈরি হওয়ার সুযোগ হয়েছে এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।