ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলক দা’র অভিমান নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ, জয় বাংলাদেশের অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, জামালপুরে ডিলারকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা ‘শত শত ডিসেম্বর চলে যাবে, শেখ হাসিনা আর ফিরবেন না’ স্কুলে ভর্তিতে ফিরছে পরীক্ষা, ৩ বিষয়ে ১০০ নম্বরের লড়াই জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আবু বাকের উৎপাদন-মজুদ পর্যাপ্ত, তবু ২৩০ টাকা কেজি সুগন্ধি চাল—দাম বাড়ার নেপথ্যে কী? নবম পে-স্কেলে ৭ এসআরও, আইবাসে অনলাইনেই নির্ধারণ হবে নতুন বেতন শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী, গুমের নির্দেশদাতাও তিনি: স্পিকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাজনৈতিক যোগসাজশ ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব

টেংরাটিলা বিস্ফোরণ

নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ, জয় বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালের পরপর দুই বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ইকসিড)।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইকসিডের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে, ইকসিডের সাম্প্রতিক রায়ে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশগত ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য আরও ২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুই বিস্ফোরণে বিপুল ক্ষতি

সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের আবিষ্কার ১৯৫৯ সালে। পরের বছর কূপ খননের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০ মিটার থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতার মধ্যে নয়টি গ্যাস স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। উত্তোলিত গ্যাস সরবরাহ করা হতো ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে।

প্রায় ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর কূপে পানি উঠে আসায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ক্ষেত্রটি কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ক্ষয়ক্ষতির জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা। তবে সেই দাবি মেনে নেয়নি কোম্পানিটি।

আদালতে গড়ায় বিরোধ

পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে পেট্রোবাংলা স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে। একই সঙ্গে নাইকোর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং কোম্পানিটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ালেও সেখানেও বাংলাদেশের পক্ষেই রায় আসে।

অন্যদিকে আটকে রাখা গ্যাস বিল ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ২০১০ সালে ইকসিডে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে নাইকো। এর একটিতে ২০১৪ সালের রায়ে পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেয় ইকসিড।

এরপর ২০১৬ সালে নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বা প্রায় ১১৭ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে ইকসিডে মামলা করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সেই মামলার চূড়ান্ত আদেশেই এবার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ এলো।

বিস্ফোরণের দায় নাইকোর

ইকসিডের রায়ে বলা হয়েছে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাতেই টেংরাটিলায় খননকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থতা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ফলে টেংরাটিলার বিস্ফোরণের জন্য নাইকোকেই সরাসরি দায়ী করেছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল।

এখনো রয়েছে গ্যাসের সম্ভাবনা

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম—এই দুটি অংশে বিভক্ত। বিস্ফোরণে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের গ্যাস মজুদ এখনো অক্ষত রয়েছে।

এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে ধারণা করা হয়।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বলেন, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত রয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় ছিল পেট্রোবাংলা। এখন আইনজীবীদের মতামত নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টেংরাটিলা বিস্ফোরণ

নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ, জয় বাংলাদেশের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালের পরপর দুই বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ইকসিড)।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইকসিডের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে, ইকসিডের সাম্প্রতিক রায়ে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশগত ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য আরও ২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুই বিস্ফোরণে বিপুল ক্ষতি

সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের আবিষ্কার ১৯৫৯ সালে। পরের বছর কূপ খননের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০ মিটার থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতার মধ্যে নয়টি গ্যাস স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। উত্তোলিত গ্যাস সরবরাহ করা হতো ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে।

প্রায় ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর কূপে পানি উঠে আসায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ক্ষেত্রটি কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ক্ষয়ক্ষতির জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা। তবে সেই দাবি মেনে নেয়নি কোম্পানিটি।

আদালতে গড়ায় বিরোধ

পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে পেট্রোবাংলা স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে। একই সঙ্গে নাইকোর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং কোম্পানিটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ালেও সেখানেও বাংলাদেশের পক্ষেই রায় আসে।

অন্যদিকে আটকে রাখা গ্যাস বিল ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ২০১০ সালে ইকসিডে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে নাইকো। এর একটিতে ২০১৪ সালের রায়ে পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেয় ইকসিড।

এরপর ২০১৬ সালে নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বা প্রায় ১১৭ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে ইকসিডে মামলা করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সেই মামলার চূড়ান্ত আদেশেই এবার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ এলো।

বিস্ফোরণের দায় নাইকোর

ইকসিডের রায়ে বলা হয়েছে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাতেই টেংরাটিলায় খননকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থতা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ফলে টেংরাটিলার বিস্ফোরণের জন্য নাইকোকেই সরাসরি দায়ী করেছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল।

এখনো রয়েছে গ্যাসের সম্ভাবনা

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম—এই দুটি অংশে বিভক্ত। বিস্ফোরণে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের গ্যাস মজুদ এখনো অক্ষত রয়েছে।

এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে ধারণা করা হয়।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বলেন, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত রয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় ছিল পেট্রোবাংলা। এখন আইনজীবীদের মতামত নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।