ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দক্ষিণ সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করবে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-এর দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। একই অনুষ্ঠানে গত এক বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করা হবে।

বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী দেশ বাংলাদেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন মিশনে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। ১১৮টি দেশ জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।

এ বছর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম স্থিতিশীলতা ও আশার পুনর্গঠনে একটি কার্যকর এবং সাশ্রয়ী উপায়। তবে এর সফলতার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা।

অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জাতিসংঘের মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

দক্ষিণ সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করবে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-এর দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। একই অনুষ্ঠানে গত এক বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করা হবে।

বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী দেশ বাংলাদেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন মিশনে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। ১১৮টি দেশ জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।

এ বছর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম স্থিতিশীলতা ও আশার পুনর্গঠনে একটি কার্যকর এবং সাশ্রয়ী উপায়। তবে এর সফলতার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা।

অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।