গরুর দুধে রয়েছে পুষ্টি, তবে ল্যাকটোজ সমস্যা থাকলে সাবধান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
গরুর দুধ দীর্ঘদিন ধরে মানুষের খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাড় শক্ত করা থেকে শুরু করে শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ—বিভিন্ন কারণে এটি জনপ্রিয়। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, দুধ যেমন পুষ্টিকর, তেমনি কিছু মানুষের জন্য এটি অস্বস্তির কারণও হতে পারে। তাই দুধের উপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা—দুটোই জানা প্রয়োজন।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে গরুর দুধ বেশ সমৃদ্ধ। এতে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা পেশী গঠন ও শরীরের কোষ মেরামতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস, যা হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে এবং বয়সজনিত হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, ফসফরাস ও পটাশিয়াম স্নায়ু, রক্তকণিকা তৈরি এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সবার শরীর দুধ সহজে গ্রহণ করতে পারে না। দুধে থাকা ল্যাকটোজ নামের প্রাকৃতিক চিনি হজম করতে ল্যাকটেজ এনজাইম প্রয়োজন। যাঁদের শরীরে এই এনজাইম কম, তাঁরা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সে ভুগতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দুধ খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়া হতে পারে। এমন সমস্যায় ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ বা দই, পনিরের মতো ফারমেন্টেড দুগ্ধজাত খাবার তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
দুধ ও হৃদ্রোগের সম্পর্ক নিয়েও আগে বিতর্ক ছিল। পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ ক্ষতিকর বলে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে দুধ বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে যাঁদের কোলেস্টেরল বেশি বা ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য লো-ফ্যাট বা স্কিমড দুধ ভালো।
ওজন নিয়ন্ত্রণেও দুধ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে অতিরিক্ত চিনি মেশানো ফ্লেভারযুক্ত দুধ এড়িয়ে চলাই ভালো।
শিশুদের ক্ষেত্রে এক বছরের পর থেকে ধীরে ধীরে গরুর দুধ খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যায়। এর আগে মায়ের দুধই সবচেয়ে উপযোগী। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধ যথেষ্ট, যদি শরীর তা ভালোভাবে সহ্য করে।
ত্বক ও চুলের উপকারিতা নিয়ে নানা ধারণা থাকলেও দুধ সরাসরি ত্বক উজ্জ্বল করে—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তবে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি সামগ্রিক পুষ্টি জোগাতে সহায়ক।
সব মিলিয়ে, গরুর দুধ সম্পূর্ণ উপকারী বা সম্পূর্ণ ক্ষতিকর—এভাবে দেখা ঠিক নয়। যাঁদের ল্যাকটোজ সমস্যা বা দুধে অ্যালার্জি নেই, তাঁদের জন্য পরিমিত দুধ একটি পুষ্টিকর খাদ্য। তবে কোনো শারীরিক অস্বস্তি বা বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।




















