ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রণ কমাতে খুশকির শ্যাম্পু? বিশেষজ্ঞরা বলছেন সতর্ক থাকতে

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড ভাইরাল হচ্ছে। সম্প্রতি তেমনই একটি আলোচিত ট্রেন্ড হলো খুশকিরোধী শ্যাম্পু দিয়ে মুখ ধোওয়া। অনেকের দাবি, অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ দ্রুত কমে যায়।

এই দাবির পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, বেশিরভাগ খুশকির শ্যাম্পুতে থাকা জিঙ্ক পাইরিথিওন উপাদানটির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণু নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারণাটি পুরোপুরি ভুল নয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে ফাঙ্গাল সংক্রমণের সম্পর্ক থাকে, বিশেষ করে ম্যালাসেজিয়া-জনিত বা ফাঙ্গাল অ্যাকনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান উপকার দিতে পারে। তবে এখানেই সতর্কতার বিষয় রয়েছে—মাথার ত্বকের জন্য তৈরি শ্যাম্পু মুখের কোমল ত্বকের জন্য উপযোগী নয়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখের ত্বক স্ক্যাল্পের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পুতে শক্তিশালী ক্লিনজিং উপাদান থাকে, যা ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও জ্বালাপোড়াযুক্ত হয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেলস্তর কমে গিয়ে স্কিন ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ত্বক সহজেই দূষণ, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জির আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে এবং ব্রণ কমার বদলে নতুন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সংবেদনশীল ত্বক, রোসেসিয়া, সোরিয়াসিস বা ডার্মাটাইটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এমনকি সপ্তাহে এক–দুবার ব্যবহারও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রণের কারণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন—হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ জমা, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ। তাই চিকিৎসাও নির্ভর করে ব্রণের ধরন ও কারণের ওপর। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ফেসওয়াশ, সিরাম বা টপিক্যাল ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করাই নিরাপদ। এগুলো ত্বকের ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করে এবং স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ব্রণ কমাতে খুশকির শ্যাম্পু? বিশেষজ্ঞরা বলছেন সতর্ক থাকতে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড ভাইরাল হচ্ছে। সম্প্রতি তেমনই একটি আলোচিত ট্রেন্ড হলো খুশকিরোধী শ্যাম্পু দিয়ে মুখ ধোওয়া। অনেকের দাবি, অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ দ্রুত কমে যায়।

এই দাবির পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, বেশিরভাগ খুশকির শ্যাম্পুতে থাকা জিঙ্ক পাইরিথিওন উপাদানটির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণু নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারণাটি পুরোপুরি ভুল নয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে ফাঙ্গাল সংক্রমণের সম্পর্ক থাকে, বিশেষ করে ম্যালাসেজিয়া-জনিত বা ফাঙ্গাল অ্যাকনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান উপকার দিতে পারে। তবে এখানেই সতর্কতার বিষয় রয়েছে—মাথার ত্বকের জন্য তৈরি শ্যাম্পু মুখের কোমল ত্বকের জন্য উপযোগী নয়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখের ত্বক স্ক্যাল্পের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পুতে শক্তিশালী ক্লিনজিং উপাদান থাকে, যা ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও জ্বালাপোড়াযুক্ত হয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেলস্তর কমে গিয়ে স্কিন ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ত্বক সহজেই দূষণ, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জির আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে এবং ব্রণ কমার বদলে নতুন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সংবেদনশীল ত্বক, রোসেসিয়া, সোরিয়াসিস বা ডার্মাটাইটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এমনকি সপ্তাহে এক–দুবার ব্যবহারও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রণের কারণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন—হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ জমা, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ। তাই চিকিৎসাও নির্ভর করে ব্রণের ধরন ও কারণের ওপর। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ফেসওয়াশ, সিরাম বা টপিক্যাল ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করাই নিরাপদ। এগুলো ত্বকের ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করে এবং স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।