ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে নবনির্বাচিত ৫ এমপির সংবাদ সম্মেলন

শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন স্থানে বিজয়ী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতের নির্বাচিত ৫ এমপি। তাদের অভিযোগ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশ প্রতিশোধমূলক এই হামলায় জড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যশোর-৪ আসনের নব নির্বাচিত এমপি ও জেলা আমীর গোলাম রছুল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোটার ও কর্মীদের ওপর হামলা, দোকানপাটে ভাঙচুর এবং বিভিন্ন গ্রামে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। যশোর-২ আসনের ঝিকরগাছা উপজেলার বাইসা গ্রামে রেজাউল হোসেন নামে এক জামায়াত কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এছাড়া বেলতা গ্রামে জামায়াতের নির্বাচনী কাজ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আহসান হাবীব খোকন ও আরমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা এবং একজন প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বাইসা বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের আড়কান্দী গ্রামে মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও কমিটিতে থাকা জামায়াত সমর্থকদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে আবেদ আলীর বাড়িতে রামদা ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের দূর্গাবরকাটি গ্রামে সাবেক মেম্বার তোফাজ্জেল হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং তাঁর মেয়েকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সদর উপজেলার সুজলপুরের জামতলার মোড়ে বৃহস্পতিবার রাতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং শুক্রবার সকালে সুমন নামে এক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে বিএনপি কর্মীদের খোঁজাখুঁজি ও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। সহিংসতার ভয়ে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মী বর্তমানে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ী প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও প্রতিশোধমূলক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এক দল হারবে, কেউ জিতবে—এটাই স্বাভাবিক। প্রতিপক্ষের ওপর এই আচরণ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। তারা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে যশোর-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ অসনের নবনির্বাচিত এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মুক্তার আলীসহ জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যশোরে নবনির্বাচিত ৫ এমপির সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যশোরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন স্থানে বিজয়ী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতের নির্বাচিত ৫ এমপি। তাদের অভিযোগ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশ প্রতিশোধমূলক এই হামলায় জড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যশোর-৪ আসনের নব নির্বাচিত এমপি ও জেলা আমীর গোলাম রছুল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোটার ও কর্মীদের ওপর হামলা, দোকানপাটে ভাঙচুর এবং বিভিন্ন গ্রামে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। যশোর-২ আসনের ঝিকরগাছা উপজেলার বাইসা গ্রামে রেজাউল হোসেন নামে এক জামায়াত কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এছাড়া বেলতা গ্রামে জামায়াতের নির্বাচনী কাজ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আহসান হাবীব খোকন ও আরমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা এবং একজন প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বাইসা বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের আড়কান্দী গ্রামে মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও কমিটিতে থাকা জামায়াত সমর্থকদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে আবেদ আলীর বাড়িতে রামদা ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের দূর্গাবরকাটি গ্রামে সাবেক মেম্বার তোফাজ্জেল হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং তাঁর মেয়েকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সদর উপজেলার সুজলপুরের জামতলার মোড়ে বৃহস্পতিবার রাতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং শুক্রবার সকালে সুমন নামে এক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে বিএনপি কর্মীদের খোঁজাখুঁজি ও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। সহিংসতার ভয়ে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মী বর্তমানে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ী প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও প্রতিশোধমূলক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এক দল হারবে, কেউ জিতবে—এটাই স্বাভাবিক। প্রতিপক্ষের ওপর এই আচরণ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। তারা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে যশোর-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ অসনের নবনির্বাচিত এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মুক্তার আলীসহ জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।