হরমুজ প্রণালীতে বাধা, বিশ্বজুড়ে হিলিয়াম সংকটের শঙ্কা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, এবার তা ছড়িয়ে পড়ছে প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও। হরমুজ প্রণালী-এ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে, যার ফলে হিলিয়াম গ্যাসের সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের মোট হিলিয়াম রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সরবরাহ দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ে।
হিলিয়াম মূলত এলএনজি উৎপাদনের উপজাত হিসেবে পাওয়া যায় এবং এটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন। একবার বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে গেলে পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। এই গ্যাস প্রযুক্তি শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম, মহাকাশ গবেষণা এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্বে হিলিয়ামের মজুদ সীমিত, যা কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী নাও হতে পারে। এরই মধ্যে কাতারের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ৩০-৩৩ শতাংশ হিলিয়াম সরবরাহ করে কাতার।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে চিকিৎসা খাত। এমআরআই মেশিন চালাতে ব্যাপক পরিমাণ হিলিয়াম প্রয়োজন হয়। সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
একইভাবে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা রয়েছে। চিপ উৎপাদনের সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে হিলিয়াম অপরিহার্য। সরবরাহ বন্ধ হলে চিপ উৎপাদন কমে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সেন্টারসহ প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এ ছাড়া মহাকাশ গবেষণা, ফাইবার অপটিক্স, ওয়েল্ডিং ও লিক শনাক্তকরণেও হিলিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা বহু জাহাজে হিলিয়ামবাহী চালান রয়েছে বলে জানা গেছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে হিলিয়ামের দাম বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংকট বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।





















