ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

১২০ কোটি বছরের জল! ভেতরে মিলল জীবনের ইঙ্গিত

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কানাডার একটি গভীর খনিতে মিলেছে বিশ্বের প্রাচীনতম জলের সন্ধান, যার বয়স প্রায় ১২০ কোটি বছর। এই আবিষ্কার ভূতত্ত্বের পাশাপাশি ভিনগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

গবেষকরা জানান, কানাডার ওন্টারিও অঞ্চলের ‘কিড ক্রিক’ নামের একটি তামা ও দস্তার খনির প্রায় ২.৪ কিলোমিটার গভীরে এই জলের সন্ধান পাওয়া যায়। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন, এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন জল, যা কোটি কোটি বছর ধরে মাটির নিচে পাথরের স্তরে আটকা ছিল।

আইসোটোপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জলের বয়স অন্তত ১২০ কোটি বছর। এর আগে ২০১৩ সালে একই খনিতে পাওয়া জলের বয়স ছিল প্রায় ১৫ কোটি বছর, ফলে নতুন এই আবিষ্কার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

গবেষণায় আরও জানা গেছে, এই জল সাধারণ পানির মতো নয়; এতে লবণ ও খনিজের পরিমাণ অনেক বেশি। পাশাপাশি হিলিয়াম, নিয়ন ও আর্গনের মতো নিষ্ক্রিয় গ্যাস এতে দ্রবীভূত অবস্থায় রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যখন এই জল পাথরের স্তরে আটকা পড়ে, তখন পৃথিবীর পরিবেশ বর্তমানের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই প্রাচীন জলে অণুজীবের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সূর্যের আলো বা অক্সিজেন ছাড়াই এসব অণুজীব পাথরের রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে শক্তি নিয়ে টিকে আছে। এতে বোঝা যায়, চরম প্রতিকূল পরিবেশেও প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব।

এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণায়ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মঙ্গল গ্রহের ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের সঙ্গে এই খনির মিল থাকায় বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মঙ্গলের মাটির নিচেও এমন সুপ্ত প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, ১২০ কোটি বছরের এই প্রাচীন জল কেবল একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়; এটি পৃথিবীর অতীত, প্রাণের টিকে থাকার ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ অনুসন্ধানের সম্ভাবনার এক অনন্য দলিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১২০ কোটি বছরের জল! ভেতরে মিলল জীবনের ইঙ্গিত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

কানাডার একটি গভীর খনিতে মিলেছে বিশ্বের প্রাচীনতম জলের সন্ধান, যার বয়স প্রায় ১২০ কোটি বছর। এই আবিষ্কার ভূতত্ত্বের পাশাপাশি ভিনগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

গবেষকরা জানান, কানাডার ওন্টারিও অঞ্চলের ‘কিড ক্রিক’ নামের একটি তামা ও দস্তার খনির প্রায় ২.৪ কিলোমিটার গভীরে এই জলের সন্ধান পাওয়া যায়। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন, এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন জল, যা কোটি কোটি বছর ধরে মাটির নিচে পাথরের স্তরে আটকা ছিল।

আইসোটোপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জলের বয়স অন্তত ১২০ কোটি বছর। এর আগে ২০১৩ সালে একই খনিতে পাওয়া জলের বয়স ছিল প্রায় ১৫ কোটি বছর, ফলে নতুন এই আবিষ্কার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

গবেষণায় আরও জানা গেছে, এই জল সাধারণ পানির মতো নয়; এতে লবণ ও খনিজের পরিমাণ অনেক বেশি। পাশাপাশি হিলিয়াম, নিয়ন ও আর্গনের মতো নিষ্ক্রিয় গ্যাস এতে দ্রবীভূত অবস্থায় রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যখন এই জল পাথরের স্তরে আটকা পড়ে, তখন পৃথিবীর পরিবেশ বর্তমানের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই প্রাচীন জলে অণুজীবের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সূর্যের আলো বা অক্সিজেন ছাড়াই এসব অণুজীব পাথরের রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে শক্তি নিয়ে টিকে আছে। এতে বোঝা যায়, চরম প্রতিকূল পরিবেশেও প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব।

এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণায়ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মঙ্গল গ্রহের ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের সঙ্গে এই খনির মিল থাকায় বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মঙ্গলের মাটির নিচেও এমন সুপ্ত প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, ১২০ কোটি বছরের এই প্রাচীন জল কেবল একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়; এটি পৃথিবীর অতীত, প্রাণের টিকে থাকার ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ অনুসন্ধানের সম্ভাবনার এক অনন্য দলিল।