ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ঈদের রাতের বিভীষিকা: কুমিল্লার রেলক্রসিংয়ে মৃত্যু, আতঙ্ক আর না ফেরা মানুষের গল্প

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদের আনন্দ তখনও ম্লান হয়নি। চারদিকে উৎসবের আবহ, ঘরে ফেরার তাড়না আর প্রিয়জনের সঙ্গে মিলনের অপেক্ষা। ঠিক সেই সময়েই কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা—যা মুহূর্তেই বদলে দেয় অসংখ্য মানুষের জীবন।

রাত ২টা ৫৫ মিনিট। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অতিক্রম করছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। ক্লান্ত যাত্রীরা কেউ ঘুমে, কেউবা আধো ঘুমে বাড়ি ফেরার স্বপ্নে বিভোর। হঠাৎই বিকট শব্দ—একটি দ্রুতগতির ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ।

সবকিছু যেন ঘটে গেল চোখের পলকে।

comilla train

বাসের যাত্রী ওমর ফারুক তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রচণ্ড শব্দে জেগে উঠে তিনি দেখেন—একটি ট্রেন বাসটিকে সামনে ঠেলে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মুহূর্তেই বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চারদিকে চিৎকার, আর্তনাদ, ভাঙাচোরা লোহার স্তূপ। এরপর আর কিছু মনে নেই তাঁর—জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

চোখ খুললে নিজেকে তিনি খুঁজে পান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর একটি বেডে। কীভাবে বেঁচে গেলেন, কে তাঁকে উদ্ধার করল—সবই অজানা।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ, এমনকি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। যারা বেঁচে আছেন, তাদের অনেকেই এখনো লড়ছেন শারীরিক ও মানসিক আঘাতের সঙ্গে।

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ট্রেনটি যখন রেলক্রসিং পার হচ্ছিল, ঠিক তখনই নোয়াখালীগামী বাসটি লাইনে উঠে পড়ে। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়—যেন লোহার সঙ্গে মানুষের এক অসম লড়াই।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় মানুষজন। রাতভর চলে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একে একে বের করে আনা হয় হতাহতদের। ভোর হওয়ার আগেই আহত ও নিহতদের নেওয়া হয় হাসপাতালে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য—বেশিরভাগের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে ঘটনাস্থলেই।

ঈদের এই আনন্দঘন সময়ে এমন দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই শোকাহত করেছে। যে পথটি ছিল বাড়ি ফেরার, সেটিই হয়ে উঠেছে অনেকের শেষ যাত্রা।

এখন তদন্ত চলছে—কেন, কীভাবে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল। কিন্তু যাদের প্রিয়জন আর ফিরে আসবে না, তাদের কাছে এই উত্তর কোনো সান্ত্বনা নয়। তাদের জন্য ঈদের রাত মানেই এখন এক অন্ধকার, শোক আর না-পাওয়া মানুষের গল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈদের রাতের বিভীষিকা: কুমিল্লার রেলক্রসিংয়ে মৃত্যু, আতঙ্ক আর না ফেরা মানুষের গল্প

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ঈদের আনন্দ তখনও ম্লান হয়নি। চারদিকে উৎসবের আবহ, ঘরে ফেরার তাড়না আর প্রিয়জনের সঙ্গে মিলনের অপেক্ষা। ঠিক সেই সময়েই কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা—যা মুহূর্তেই বদলে দেয় অসংখ্য মানুষের জীবন।

রাত ২টা ৫৫ মিনিট। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অতিক্রম করছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। ক্লান্ত যাত্রীরা কেউ ঘুমে, কেউবা আধো ঘুমে বাড়ি ফেরার স্বপ্নে বিভোর। হঠাৎই বিকট শব্দ—একটি দ্রুতগতির ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ।

সবকিছু যেন ঘটে গেল চোখের পলকে।

comilla train

বাসের যাত্রী ওমর ফারুক তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রচণ্ড শব্দে জেগে উঠে তিনি দেখেন—একটি ট্রেন বাসটিকে সামনে ঠেলে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মুহূর্তেই বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চারদিকে চিৎকার, আর্তনাদ, ভাঙাচোরা লোহার স্তূপ। এরপর আর কিছু মনে নেই তাঁর—জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

চোখ খুললে নিজেকে তিনি খুঁজে পান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর একটি বেডে। কীভাবে বেঁচে গেলেন, কে তাঁকে উদ্ধার করল—সবই অজানা।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ, এমনকি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। যারা বেঁচে আছেন, তাদের অনেকেই এখনো লড়ছেন শারীরিক ও মানসিক আঘাতের সঙ্গে।

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ট্রেনটি যখন রেলক্রসিং পার হচ্ছিল, ঠিক তখনই নোয়াখালীগামী বাসটি লাইনে উঠে পড়ে। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়—যেন লোহার সঙ্গে মানুষের এক অসম লড়াই।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় মানুষজন। রাতভর চলে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একে একে বের করে আনা হয় হতাহতদের। ভোর হওয়ার আগেই আহত ও নিহতদের নেওয়া হয় হাসপাতালে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য—বেশিরভাগের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে ঘটনাস্থলেই।

ঈদের এই আনন্দঘন সময়ে এমন দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই শোকাহত করেছে। যে পথটি ছিল বাড়ি ফেরার, সেটিই হয়ে উঠেছে অনেকের শেষ যাত্রা।

এখন তদন্ত চলছে—কেন, কীভাবে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল। কিন্তু যাদের প্রিয়জন আর ফিরে আসবে না, তাদের কাছে এই উত্তর কোনো সান্ত্বনা নয়। তাদের জন্য ঈদের রাত মানেই এখন এক অন্ধকার, শোক আর না-পাওয়া মানুষের গল্প।