আমেরিকা–ইসরায়েলের হামলায় নিহত খামেনি, ইরানের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৩:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দাবির পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে— আমেরিকা ও ইজরায়েল-এর যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। রবিবার (১ মার্চ) ভোরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, শনিবার দপ্তরে কাজ করার সময় হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় খামেনেইয়ের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন। BBC জানিয়েছে, তেহরানে তাঁর দপ্তর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে— উপগ্রহচিত্রে সেই ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত মিলেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের সংবাদ শাখা দাবি করেছে, খামেনেই আত্মগোপন করেননি; বরং দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন। পালিয়ে যাওয়ার খবরকে ‘মানসিক যুদ্ধের অংশ’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
খামেনেইয়ের উত্থান ও ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্ম খামেনেইয়ের। তিনি ছিলেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতোল্লা রুহোল্লাহ খোমেনেই-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ১৯৭৯ সালে মোহাম্মদ রেজা পাহলভী-র পতনের মধ্য দিয়ে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রতিষ্ঠা পায় ‘মোল্লাতন্ত্র’, যার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন খামেনেই।
এখন কোন পথে ইরান?
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বাড়ছিল। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর বড় প্রশ্ন— দেশটি কি রাজনৈতিক রূপান্তরের পথে এগোবে? নাকি বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্র কাঠামোর মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো বহুস্তরবিশিষ্ট— যেখানে ধর্মীয় নেতৃত্ব, বিপ্লবী গার্ড এবং নির্বাচিত সরকার— তিনটি স্তম্ভই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে একক ব্যক্তির মৃত্যু তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থার পতন ডেকে আনবে কি না, তা নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক চাপের ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এই ঘটনা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এখন নজর থাকবে— দেশটির ধর্মীয় পরিষদ, সামরিক নেতৃত্ব এবং জনমতের ওপর।
টানা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করল তেহরানও। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশ জুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু খামেনেইয়ের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। তার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সমাজমাধ্যমে সেই ঘোষণা করেন। কিন্তু ইরানের তরফে এই খবর উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক বার। তারা দাবি করেছে, তাদের নেতা অক্ষত এবং নিরাপদে রয়েছেন। রবিবার সকালে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমও খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল। যৌথ বাহিনীর হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ডও খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রকাশ করেছে। তারা লিখেছে, ‘‘আমরা এক মহান নেতাকে হারিয়েছি। তিনি অনন্য ছিলেন।’’
নিজের অফিসে কাজ করছিলেন খামেনি, আচমকা হামলা
নিজের অফিসে বসে কাজ করছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আচমকা সেখানেই বোমা এসে পড়ে। তাঁর সঙ্গে মৃত্যু হয় তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনিরও। ইরানের সংবাদমাধ্যম এমনটাই জানাচ্ছে। দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা আমেরিকা ও ইরানের যৌথ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে।
সংবাদসংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘হামলার সময় খামেনেই নিজের কাজের জায়গায় ছিলেন এবং দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই কাপুরুষোচিত হামলাটি হয়েছে শনিবার ভোরের দিকে।’’ খামেনেইয়ের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘সর্বোচ্চ নেতার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনির শহিদ হওয়ার খবর পাই।’’
ইরানের বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে তারা শোকাহত। তবে প্রত্যাঘাত হবে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বাহিনীকে নিশানা করে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র হামলা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বলা হয়েছে, সেই তীব্রতম হামলা শুরু হবে আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও যে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে না, তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে শান্তি ফেরাতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সেখানে বোমাবর্ষণ চলবে। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও সেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


























