রাতের অন্ধকারে সাইকেলে দেহের টুকরো, পরিকল্পিত খুনের শীতল চিত্র
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ব্যস্ত তিনটি এলাকা—নয়াপল্টন, গুলিস্তান এবং কমলাপুর রেলস্টেশন—জুড়ে ছড়িয়ে ছিল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আলামত। কাটা দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধারের পর পুলিশ যে চিত্র তুলে ধরেছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ গুম করতে চাপাতি দিয়ে দেহ টুকরো করা হয়। প্রতিটি অঙ্গ আলাদা কালো পলিথিনে ভরে সাইকেলে করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসা হয়। রাত ১২টা ১০ মিনিটে নয়াপল্টনে স্কাউট ভবন–এর সামনে একটি পা ফেলা হয়। পরে গুলিস্তানে স্টেডিয়ামের ১৩ নম্বর গেটের কাছে দুটি হাত এবং কমলাপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আরেকটি পা পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ২১ বছর বয়সী শাহীন আলম–কে আটক করা হয়েছে। আঙুলের ছাপ পরীক্ষায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। তিনি মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ (৩০), বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরে। তিনি ‘গণস্বাস্থ্য হোমিও’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ওবায়দুল্লাহ ও শাহীন আলম মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন ব্যক্তিগত ক্ষোভের কথা স্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওবায়দুল্লাহ তাকে অপমান ও পরিবার নিয়ে কটূক্তি করতেন। সেই ক্ষোভ থেকেই শুক্রবার রাতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী জানান, প্রথমে কালো পলিথিনে মোড়ানো একটি পা উদ্ধার হওয়ার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি পলিথিন ফেলে সাইকেলে চলে যাচ্ছেন। সেই সূত্র ধরেই শনাক্ত করা হয় শাহীন আলমকে। পরে হীরাঝিল হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। তার সাইকেল ও হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি জব্দ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যার পেছনে কেবল ব্যক্তিগত বিরোধই কাজ করেছে, নাকি আরও কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শহরের জনবহুল এলাকায় এমনভাবে দেহাংশ ছড়িয়ে ফেলা পরিকল্পিত আতঙ্ক সৃষ্টির ইঙ্গিত দেয় কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।
এখন প্রশ্ন—এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, এবং দেহের বাকি অংশ উদ্ধার ও ফরেনসিক বিশ্লেষণে আর কী তথ্য সামনে আসে? তদন্ত এগোলে হয়তো মিলবে সেই উত্তর।






















