ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফিলিং স্টেশনগুলোতে অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু আবু বকর সিদ্দিক বক্করঃ আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি জয়পুরহাটে অবৈধভাবে তেল মজুদ করায় জরিমানা প্রাথমিকের ২ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ও জামায়াত জোটের কার কত আসন? সারা দেশে বিক্ষোভে নামছে ১১ দলীয় জোট, ৯ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পাঁচ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, হতে পারে শিলাবৃষ্টিও টিউলিপদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানি ১৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় গঠনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে, সন্ত্রাসবিরোধী বিল পাস

দু’দকের জালে ড. ইউনূস ও সাবেক উপদেষ্টারা!

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এমন আলোচনা হচ্ছে যে, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ধীরে ধীরে প্রমাণিত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নিয়োগ-বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে স্বার্থসিদ্ধি করেছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই দুর্নীতির শতাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ। দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের সংখ্যা ও গতি দেখে মনে হচ্ছে এটি রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।

দুদক সূত্র বলছে, অধিকাংশ অভিযোগ নাম-পরিচয়বিহীনভাবে জমা পড়লেও কয়েকটি অভিযোগে অভিযোগকারীরা পূর্ণ পরিচয় দিয়ে চিঠি দিয়েছেন। অন্যান্য অভিযোগের মতোই এসব অভিযোগও প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর আমলযোগ্য হলে অনুসন্ধানে নেওয়া হবে।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আয়কর ফাঁকি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করে গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করা হয়েছে। ট্রাস্টটির মাধ্যমে পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ এবং আয়কর ফাঁকির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে কয়েকটি আবেদনে।

ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্যের অভিযোগ

সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল–এর বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক ও সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে অনিয়ম এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগ।

একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, একটি শিল্প গ্রুপের সিইও–সংক্রান্ত মামলায় বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জামিন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছে। আরেক অভিযোগে টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট একজন ব্যবসায়ীর জামিনে অনিয়মের দাবি তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে একাধিক জামিন প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন হয়েছে।

পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিচারক ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে অভিযোগ

সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার স্বামীর বিরুদ্ধেও পৃথক একটি অভিযোগ রয়েছে, যেখানে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে।

সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে একটি শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণ এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্বাস্থ্য, তথ্য ও ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি ও হাসপাতাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ জমা পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ঘুষ গ্রহণ, কাজ না দেওয়া, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেআইনি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন।

টিআইবির বক্তব্য

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগ আমলযোগ্য হলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে এবং কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

দুদকের অবস্থান

দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক যাচাইয়ে যেসব অভিযোগে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তি পাওয়া যাবে, সেগুলো পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানে নেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অভিযোগের এই ঢল রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে জবাবদিহিতা ও প্রতিষ্ঠানগত নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া ও তার স্বচ্ছতার ওপর।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য

সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি অনুসন্ধান সংস্থা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে শুধু উপদেষ্টাদেরই নয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে শীঘ্রই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দু’দকের জালে ড. ইউনূস ও সাবেক উপদেষ্টারা!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এমন আলোচনা হচ্ছে যে, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ধীরে ধীরে প্রমাণিত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নিয়োগ-বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে স্বার্থসিদ্ধি করেছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই দুর্নীতির শতাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ। দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের সংখ্যা ও গতি দেখে মনে হচ্ছে এটি রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।

দুদক সূত্র বলছে, অধিকাংশ অভিযোগ নাম-পরিচয়বিহীনভাবে জমা পড়লেও কয়েকটি অভিযোগে অভিযোগকারীরা পূর্ণ পরিচয় দিয়ে চিঠি দিয়েছেন। অন্যান্য অভিযোগের মতোই এসব অভিযোগও প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর আমলযোগ্য হলে অনুসন্ধানে নেওয়া হবে।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আয়কর ফাঁকি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করে গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করা হয়েছে। ট্রাস্টটির মাধ্যমে পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ এবং আয়কর ফাঁকির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে কয়েকটি আবেদনে।

ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্যের অভিযোগ

সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল–এর বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক ও সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে অনিয়ম এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগ।

একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, একটি শিল্প গ্রুপের সিইও–সংক্রান্ত মামলায় বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জামিন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছে। আরেক অভিযোগে টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট একজন ব্যবসায়ীর জামিনে অনিয়মের দাবি তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে একাধিক জামিন প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন হয়েছে।

পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিচারক ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে অভিযোগ

সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার স্বামীর বিরুদ্ধেও পৃথক একটি অভিযোগ রয়েছে, যেখানে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে।

সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে একটি শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণ এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্বাস্থ্য, তথ্য ও ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি ও হাসপাতাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ জমা পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ঘুষ গ্রহণ, কাজ না দেওয়া, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেআইনি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন।

টিআইবির বক্তব্য

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগ আমলযোগ্য হলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে এবং কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

দুদকের অবস্থান

দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক যাচাইয়ে যেসব অভিযোগে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তি পাওয়া যাবে, সেগুলো পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানে নেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অভিযোগের এই ঢল রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে জবাবদিহিতা ও প্রতিষ্ঠানগত নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া ও তার স্বচ্ছতার ওপর।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য

সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি অনুসন্ধান সংস্থা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে শুধু উপদেষ্টাদেরই নয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে শীঘ্রই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।