দুই দশক পর ক্ষমতার পালাবদল: ক্ষমতার আনুষ্ঠানিক রূপান্তরে কী ইঙ্গিত?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আগামী মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শপথ শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি দেশের ক্ষমতার কাঠামোয় একটি বড় রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রতীক।
সাংবিধানিক জটিলতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতার পথে
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শপথ নিয়ে কিছু সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের শপথের সিদ্ধান্ত সেই অচলাবস্থা দূর করেছে।
এটি প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
শক্তিশালী ম্যান্ডেট, বড় প্রত্যাশা
বিএনপি জোট ২১২টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই শক্তিশালী ম্যান্ডেট নতুন সরকারের জন্য যেমন নীতিনির্ধারণে সুবিধা তৈরি করবে, তেমনি জনমানসে প্রত্যাশার চাপও বাড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের প্রধান প্রত্যাশা থাকবে— অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক সংস্কার, রাজনৈতিক সহনশীলতা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিরোধী রাজনীতি।
জামায়াত জোটের ৭৭টি আসন পাওয়ার ফলে সংসদে একটি কার্যকর বিরোধী শক্তি থাকবে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক হলেও, রাজনৈতিক সমঝোতা ও সহনশীলতা কতটা বজায় থাকবে—তা নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
নতুন সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ
শপথের পরপরই নতুন সরকারকে কয়েকটি তাৎক্ষণিক ইস্যু মোকাবিলা করতে হবে— অর্থনীতি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনে পুনর্বিন্যাস, জুলাই জাতীয় সনদ ও দলীয় ৩১ দফা বাস্তবায়নের রোডম্যাপ, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা।
রাজনৈতিক বার্তা
মঙ্গলবারের শপথ অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনটি বার্তা দিচ্ছে— দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি, নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিষ্ঠা, দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
মঙ্গলবারের শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের রাজনীতি একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। তবে শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করবে, তেমনি এই সরকার কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক হতে পারে—সেটিই নির্ধারণ করবে তাদের রাজনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত মূল্যায়ন।























