ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় একাধিক নাম, কোন পথে যাবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হওয়ার পর এখন নজর রাষ্ট্রের সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কে আসছেন—সেদিকে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, অভিজ্ঞ রাজনীতিক, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব এবং অরাজনৈতিক গ্রহণযোগ্য মুখ—এই তিন ধরনের বিবেচনাকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করছে বিএনপি। এটি শুধু একটি পদ পূরণ নয়; বরং নতুন সরকারের রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলোচনায় যেসব নাম

রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন—নজরুল ইসলাম খান (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য), ড. মুহাম্মদ ইউনূস (অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপি মহাসচিব), ড. আবদুল মঈন খান (স্থায়ী কমিটির সদস্য)।

এছাড়া অরাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদ মহল থেকেও কয়েকটি নাম উঠে এসেছে— ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য), ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক)।

রাজনৈতিক ভারসাম্যের সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে তিনটি কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছে—

১. দলীয় বিশ্বস্ততা ও অভিজ্ঞতা

নজরুল ইসলাম খান বা মির্জা ফখরুলের মতো নেতারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় আস্থার প্রতীক। তাঁদের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নিলে দলীয় কাঠামোর অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য শক্তিশালী হবে।

২. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনায় থাকা ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিতে আগ্রহী হতে পারে। অর্থনীতি, উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি সরকারের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে পারে।

৩. নিরপেক্ষতার বার্তা

অরাজনৈতিক বা শিক্ষাবিদ কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তা রাজনৈতিক মেরুকরণ কমানোর একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবেশে এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে।

ক্ষমতার কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব

বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও— সংসদের শপথ, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, জরুরি পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক ভূমিকা, রাষ্ট্রীয় ভারসাম্যের প্রতীক, —এসব কারণে পদটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিএনপির সামনে কৌশলগত সিদ্ধান্ত

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি মূলত তিন ধরনের বার্তার একটি দিতে পারে— দলকেন্দ্রিক সরকার (দলীয় প্রবীণ নেতা নির্বাচন), সমঝোতা ও অন্তর্ভুক্তির রাজনীতি (নিরপেক্ষ বা অরাজনৈতিক ব্যক্তি), আন্তর্জাতিক আস্থা ও স্থিতিশীলতার বার্তা (ড. ইউনূসের মতো গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব)

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নতুন সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ শাসনধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি দলীয় আনুগত্য, জাতীয় গ্রহণযোগ্যতা নাকি কূটনৈতিক বার্তা—কোনটিকে অগ্রাধিকার দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় একাধিক নাম, কোন পথে যাবে বিএনপি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হওয়ার পর এখন নজর রাষ্ট্রের সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কে আসছেন—সেদিকে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, অভিজ্ঞ রাজনীতিক, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব এবং অরাজনৈতিক গ্রহণযোগ্য মুখ—এই তিন ধরনের বিবেচনাকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করছে বিএনপি। এটি শুধু একটি পদ পূরণ নয়; বরং নতুন সরকারের রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলোচনায় যেসব নাম

রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন—নজরুল ইসলাম খান (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য), ড. মুহাম্মদ ইউনূস (অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপি মহাসচিব), ড. আবদুল মঈন খান (স্থায়ী কমিটির সদস্য)।

এছাড়া অরাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদ মহল থেকেও কয়েকটি নাম উঠে এসেছে— ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য), ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক)।

রাজনৈতিক ভারসাম্যের সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে তিনটি কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছে—

১. দলীয় বিশ্বস্ততা ও অভিজ্ঞতা

নজরুল ইসলাম খান বা মির্জা ফখরুলের মতো নেতারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় আস্থার প্রতীক। তাঁদের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নিলে দলীয় কাঠামোর অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য শক্তিশালী হবে।

২. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনায় থাকা ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিতে আগ্রহী হতে পারে। অর্থনীতি, উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি সরকারের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে পারে।

৩. নিরপেক্ষতার বার্তা

অরাজনৈতিক বা শিক্ষাবিদ কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তা রাজনৈতিক মেরুকরণ কমানোর একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবেশে এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে।

ক্ষমতার কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব

বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও— সংসদের শপথ, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, জরুরি পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক ভূমিকা, রাষ্ট্রীয় ভারসাম্যের প্রতীক, —এসব কারণে পদটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিএনপির সামনে কৌশলগত সিদ্ধান্ত

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি মূলত তিন ধরনের বার্তার একটি দিতে পারে— দলকেন্দ্রিক সরকার (দলীয় প্রবীণ নেতা নির্বাচন), সমঝোতা ও অন্তর্ভুক্তির রাজনীতি (নিরপেক্ষ বা অরাজনৈতিক ব্যক্তি), আন্তর্জাতিক আস্থা ও স্থিতিশীলতার বার্তা (ড. ইউনূসের মতো গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব)

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নতুন সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ শাসনধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি দলীয় আনুগত্য, জাতীয় গ্রহণযোগ্যতা নাকি কূটনৈতিক বার্তা—কোনটিকে অগ্রাধিকার দেয়।