মাথা যত ঝুঁকে, ঘাড়ে তত চাপ—ডিজিটাল জীবনে নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
মোবাইল ও ল্যাপটপ এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কাজ, পড়াশোনা থেকে বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, স্ক্রিনের ভুল উচ্চতা এবং দীর্ঘক্ষণ মাথা সামনে ঝুঁকিয়ে রাখার অভ্যাস থেকেই বাড়ছে ঘাড়ব্যথা, মাথাব্যথা ও কাঁধে পেশির টান।
স্বাভাবিকভাবে মানুষের মাথার ওজন প্রায় ৪–৫ কেজি। সোজা হয়ে বসলে এই ওজন ঘাড়ের ওপর স্বাভাবিকভাবে ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু মাথা যদি ৪৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি সামনে ঝুঁকে থাকে, তাহলে ঘাড়ের ওপর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে প্রায় ১৮–২৫ কেজির সমান হয়ে যায়। দীর্ঘদিন এমন চাপ থাকলে ঘাড়ের পেশিতে ক্লান্তি, শক্তভাব ও ব্যথা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘ সময় সামনে ঝুঁকে থাকলে ঘাড়ের পেছনের পেশি ও কাঁধের ওপরের অংশ অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকে। এতে পেশিতে গিঁট বা ট্রিগার পয়েন্ট তৈরি হতে পারে। এই ব্যথা ঘাড় থেকে মাথার পেছন বা কপাল পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়ে টেনশন ধরনের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
কারও ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হয় মাথাব্যথা, আবার কারও ঘাড় বা কাঁধে বেশি ব্যথা অনুভূত হয়। শারীরিক গঠন, পেশির শক্তি ও ব্যক্তিভেদে ব্যথা অনুভূতির তারতম্যের কারণে এমনটা হয়ে থাকে। যাঁদের ঘাড় ও কাঁধের পেশি দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা বেশি।
কিছু প্রাথমিক লক্ষণেই সতর্ক হওয়া জরুরি। সকালে ঘাড় শক্ত লাগা, কাজ শেষে মাথা ভারী মনে হওয়া, দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারের পর কাঁধে টান ধরা—এসবই ভুল ভঙ্গির ইঙ্গিত। অনেক সময় মাথার পেছন বা খুলির নিচে চাপ অনুভূত হতে পারে। বিশ্রাম বা নড়াচড়ায় ব্যথা কমে গেলে তা ভঙ্গিজনিত সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এই সমস্যা এড়াতে স্ক্রিন চোখের সমান উচ্চতায় রাখা এবং বসার সময় কান ও কাঁধ একই সরল রেখায় আছে কি না, তা খেয়াল রাখা প্রয়োজন। একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ না থেকে প্রতি ৩০–৪০ মিনিট পরপর উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘাড় ও কাঁধের পেশি শক্ত রাখতে সহজ কিছু ব্যায়ামও উপকারী। যেমন—চিবুক ভেতরের দিকে টেনে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখা, ধীরে ধীরে ঘাড় পেছনের দিকে প্রসারিত করা এবং কাঁধের পেশি সংকুচিত করে ছেড়ে দেওয়া। পাশাপাশি বুক ও কাঁধের সামনের অংশ স্ট্রেচ করলে শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ পেশির টান বাড়ালেও সমস্যার মূল কারণ ভুল ভঙ্গি। তাই শুধু চাপ কমানো নয়, সঠিক বসার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে জরুরি। ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমানো সম্ভব না হলেও সচেতনতা ও সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখলে ঘাড় ও মাথাব্যথার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।




















