শপথ জটিলতায় সরকার গঠনে বিলম্ব: সংবিধান, বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বার্তা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বিএনপির সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে এগোচ্ছে না। সংবিধানগত জটিলতার কারণে সোমবারের আগে সংসদ সদস্যদের শপথ ও নতুন সরকার গঠন সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি কেবল প্রশাসনিক বিলম্ব নয়; এটি দেশের সাংবিধানিক কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও সামনে এনেছে।
কোথায় জটিলতা?
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার অথবা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায়—
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুপস্থিত, তিনি কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাননি, ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্ব পালনের অবস্থায় নেই। ফলে শপথ কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ কার্যত অনুপস্থিত।
সংবিধানের বিকল্প ব্যবস্থায় বলা আছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার শপথ না করালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ফলে একটি বাধ্যতামূলক সময়সীমা তৈরি হয়েছে, যার কারণে সরকার গঠনে অন্তত কয়েক দিনের বিলম্ব অনিবার্য।
সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার পরীক্ষা
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরেছে—প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা দুর্বল হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে যায়।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে কার্যত শূন্যতা তৈরি হওয়ায় এখন তার প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর উত্তরাধিকার ও দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তার দিকেও ইঙ্গিত করছে।
রাজনৈতিক বার্তা কী?
যদিও বিলম্বটি মূলত আইনি কারণে, তবুও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। নতুন সরকার দ্রুত দায়িত্ব নিতে চাইলেও সংবিধান মেনে অপেক্ষা করছে—এটি সাংবিধানিক শৃঙ্খলার প্রতি আনুগত্যের বার্তা দিতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ এই বিলম্বকে প্রশাসনিক অদক্ষতা বা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা
এই সময় পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারই দায়িত্ব পালন করবে। ফলে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়কাল স্বল্প হলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং আমলাতান্ত্রিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী—
গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন, সেই দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে, অর্থাৎ সোমবার বা মঙ্গলবার নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এই বিলম্ব দেখিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই সরকার গঠন তাৎক্ষণিক হয় না—রাষ্ট্র পরিচালনা একটি কাঠামোগত ও প্রক্রিয়াভিত্তিক ব্যবস্থা। একই সঙ্গে এটি নতুন সরকারের সামনে একটি বাস্তবতা তুলে ধরছে: রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সাংবিধানিক সক্ষমতা জোরদার করাও আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। শুক্রবার গণনাশেষে দেখা গেছে, ২১২টি আসনে জিতেছে বিএনপি। জামাত এবং তার জোট শরিকেরা পেয়েছে ৭৭টি আসন। অন্যদের ঝুলিতে গেছে আটটি আসন। তবে ২৯৭টি আসনের ফলাফল বেসরকারি ভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।
দু’টি আসনের ফলঘোষণা আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। সূত্রের খবর, ওই দু’টি আসনেও বিএনপি এগিয়ে। সরকারি ভাবে নির্বাচনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে শুক্রবার রাতে। কিন্তু নতুন সরকার গঠন আটকে রয়েছে।






















