পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে বসন্তের রঙে রাঙা দেশ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
শীতের রিক্ততা কাটিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে চারপাশে বইতে শুরু করেছে ফাল্গুনী হাওয়া। গণমানুষের কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়— ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত’—তবে এ বছর প্রকৃতিই যেন তার পূর্ণ রূপে ধরা দিয়েছে। গাছে গাছে ফুটেছে শিমুল-পলাশের রক্তিম ফুল, প্রকৃতি সেজেছে নতুন রঙে, আর সেই রঙে মিশে গেছে মানুষের ভালোবাসার আবেগ। একই দিনে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও।
ফাল্গুনকে বলা হয় ফুলের মাস। শিমুল-পলাশের লাল আভা, আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আর কোকিলের কুহুতানে প্রকৃতি যেন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বাতাসে মিশে থাকে হালকা উষ্ণতা, যা শীতের মলিনতা ধীরে ধীরে মুছে দেয়। প্রকৃতি ও মানুষের মনে জাগে নতুন প্রাণের সঞ্চার।
আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন। বসন্ত ও ভালোবাসার রঙে সেজে উঠেছে মানুষ। হলুদ-কমলা পোশাক, ফুলের অলংকার আর উৎসবের আমেজে দিনটি উদযাপন করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বাঙালির বসন্তবরণ উৎসবের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য। প্রতিবছর এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় বসন্ত উৎসবে মিলিত হন হাজারো মানুষ। তবে এবার চিরাচরিত স্থান পরিবর্তন করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে সকাল সাড়ে সাতটায় আয়োজন করা হয়েছে বসন্তবরণ অনুষ্ঠান।
ঐতিহাসিকভাবে বসন্ত উৎসবের সূচনা হয় মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে, যখন বাংলা সনে বিভিন্ন ঋতুভিত্তিক উৎসবের প্রচলন করা হয়। পরবর্তীতে ষাটের দশকে ছায়ানট ফাল্গুনের প্রথম দিনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৯৪ সালে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় পহেলা ফাল্গুন উদযাপনের ধারা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে নিয়মিত উৎসবে পরিণত হয়েছে।
প্রকৃতির রঙ, ভালোবাসার আবেগ আর সংস্কৃতির ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে বসন্তের উচ্ছ্বাসে রঙিন হয়ে উঠেছে দেশ।




















