ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিরোধীদলীয় সমর্থকদের ওপর বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলা, প্রতিবাদ শিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের দ্বারা দেশের বিভিন্ন  স্থানে বিরোধীদলীয় সমর্থক, তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কারচুপি ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যামে প্রশ্নবিদ্ধভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একটি অস্থিতিশীল ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, রংপুর, পঞ্চগড়, দিনাজপুর,  ফেনী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জনপদে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হচ্ছে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বিএনপির ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। কোথাও কোথায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, লুটপাট চালানো হচ্ছে। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভিন্নমতের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা আশা করি নবনির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবিলম্বে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করে সকল নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের নৈতিক ও আবশ্যিক দায়িত্ব। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, অনেক স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চললেও প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ নাগরিকদের ওপর এমন সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “যদি অবিলম্বে এই তাণ্ডব বন্ধ করা না হয়, তবে ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের পরে এ ধরনের সন্ত্রাসবাদ, মাফিয়াতন্ত্র বা দখলদারিত্ব কোনোভাবেই কাম্য নয়।

নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিএনপিকে দলীয়ভাবে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিরোধীদলীয় সমর্থকদের ওপর বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলা, প্রতিবাদ শিবিরের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের দ্বারা দেশের বিভিন্ন  স্থানে বিরোধীদলীয় সমর্থক, তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কারচুপি ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যামে প্রশ্নবিদ্ধভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একটি অস্থিতিশীল ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, রংপুর, পঞ্চগড়, দিনাজপুর,  ফেনী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জনপদে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হচ্ছে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বিএনপির ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। কোথাও কোথায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, লুটপাট চালানো হচ্ছে। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভিন্নমতের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা আশা করি নবনির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবিলম্বে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করে সকল নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের নৈতিক ও আবশ্যিক দায়িত্ব। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, অনেক স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চললেও প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ নাগরিকদের ওপর এমন সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “যদি অবিলম্বে এই তাণ্ডব বন্ধ করা না হয়, তবে ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের পরে এ ধরনের সন্ত্রাসবাদ, মাফিয়াতন্ত্র বা দখলদারিত্ব কোনোভাবেই কাম্য নয়।

নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিএনপিকে দলীয়ভাবে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান।