মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নেই জামায়াতের উত্থান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলের ওপর দীর্ঘস্থায়ী দমন-পীড়নই দেশে জামায়াতের উত্থানের অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে চেপে ধরা হলে বিকল্প শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে—এটি রাজনৈতিক বিজ্ঞানের স্বীকৃত সত্য।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় পাওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। জেলার অপর দুই আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
জামায়াতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যখন মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়, রাজনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই অন্য শক্তিগুলো সুযোগ পায়।
তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, আজকে জামায়াতের যে উত্থান, তা আওয়ামী লীগের কারণেই। বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়া, নির্বাচনে অংশ নিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি—এসবই রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করেছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জনগণ শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির পক্ষেই রায় দিয়েছে। আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী—বাংলাদেশের মানুষ অপপ্রবণতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, এটি জনগণের স্পষ্ট বার্তা,বলেন তিনি।
বিএনপির ৩১ দফা ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত সংস্কার কর্মসূচি, প্রতিশ্রুতি ও নীতিগত অবস্থান জনগণ গ্রহণ করেছে বলেই এই ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি এসেছে।
জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন এবং যাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করেছি—তাদের নিয়েই আমরা সরকার গঠন করব, ইনশাল্লাহ। আমরা আমাদের কমিটমেন্টে অটল।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল জানান, যেসব বিষয়ে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ৩১ দফা কর্মসূচির ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রংপুর বিভাগে জামায়াতের তুলনামূলক ভালো ফল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তবে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলে জামায়াত কোনো আসন পায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বৃহত্তর দিনাজপুরের তিন জেলায় ১১টি আসন—সবগুলোই বিএনপি পেয়েছে। আমরা জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করলে এই প্রবণতাও কাটিয়ে উঠতে পারব, বলেন তিনি।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল শুধু দলীয় শক্তির হিসাবই নয়; বরং দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, জোট রাজনীতি ও ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়ারও বহিঃপ্রকাশ। নতুন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত
























