ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে গড়ে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, ২৯৯টি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হয়নি। ইসি জানিয়েছে, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে এটি নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ধরা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হলেও বাকী ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ইতিমধ্যেই এসেছে।

ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে এবং তারা ২০০টিরও বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় এবং ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

এবারের নির্বাচনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে গণভোট। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার এই সংস্কার চার্টারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল।

বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ‘সন্তোষজনক’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভোট প্রদানের পর দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ ১৮ মাস রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির কারণে বড় কোনো কারচুপির অভিযোগ আসে নি।

ইসি সচিব আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুততম সময়ে বাকি আসনের ফলাফল ঘোষিত হয়ে নতুন সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভোটারদের সরব উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে জনগণ স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কতটা উন্মুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে গড়ে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, ২৯৯টি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হয়নি। ইসি জানিয়েছে, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে এটি নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ধরা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হলেও বাকী ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ইতিমধ্যেই এসেছে।

ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে এবং তারা ২০০টিরও বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় এবং ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

এবারের নির্বাচনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে গণভোট। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার এই সংস্কার চার্টারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল।

বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ‘সন্তোষজনক’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভোট প্রদানের পর দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ ১৮ মাস রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির কারণে বড় কোনো কারচুপির অভিযোগ আসে নি।

ইসি সচিব আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুততম সময়ে বাকি আসনের ফলাফল ঘোষিত হয়ে নতুন সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভোটারদের সরব উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে জনগণ স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কতটা উন্মুখ।