ভোটের আগে নগদ বিতরণ: জামায়াত নেতার ব্যবসায়ী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকার ব্যাগ নিয়ে জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করার ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন অভিযোগ করেছেন, জামায়াত নেতার এই অর্থ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক।
তিনি বলেন, “বেলাল উদ্দিন প্রধান মাদ্রাসার শিক্ষক এবং তার স্ত্রী বাসায় দুইটি সেলাই মেশিন দিয়ে জামা কাপড় সেলাই করে বিক্রি করেন। স্থানীয়রা জানে না যে তিনি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তাই তার ব্যবসায়িক পরিচয় সত্যিই প্রমাণিত কিনা তা ট্যাক্স ফাইল দেখলেই স্পষ্ট হবে।”
নির্বাচনের একদিন আগে বিপুল অর্থ বহন এবং এর সঠিক উৎস না দেখানো, ভোট প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব মনে করছেন, এমন ঘটনা ভোটের পূর্বপরিস্থিতিকে উত্তেজিত করতে পারে।
বেলাল উদ্দিন প্রধান আটকের পর দাবি করেছেন, ব্যাগে থাকা ৫০-৬০ লাখ টাকা তার ব্যবসার অর্থ। তবে তল্লাশির পর দেখা গেছে, ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা রয়েছে। আটকের সময় অসুস্থ হওয়ায় তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে নগদ বিতরণের মতো ঘটনা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অবিশ্বাস এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি, তবে স্থানীয় জনগণ ও ভোটারদের সচেতনতার পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক তদন্তও প্রয়োজন।
যদিও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা ঘটনাকে পরিকল্পিত অভিযোগ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটের আগ মুহূর্তে এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী উত্তেজনা ও সন্দেহের মাত্রা আরও বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি কার্যকর মনিটরিং করতে ব্যর্থ হন, তাহলে ভোটের ফলাফলের ওপর জনমনে আস্থা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অবিশ্বাস ও অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।”
এদিকে, ঢাকা-৬ আসনের ভোটের সময় ভোটারদের কাছে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগে সূত্রাপুর থানা জামায়াতের নায়েবে আমির হাবিবুর রশিদকে স্থানীয়রা আটক করেছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারের কাছে ৪৪ নং ওয়ার্ডের একটি চাউলের দোকানে ভোটারদের কাছে টাকা বিতরণের সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে ফেলে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে যাচাই-বাছাই করে হাবিবুর রশিদকে দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।






















