ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরমাণু যুদ্ধবিরোধী শেষ চুক্তি শেষ , বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পারমাণবিক উদ্বেগ

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একটির পর একটি যুদ্ধ বিশ্বকে অস্থির করে তুলছে। গাজা থেকে ইউক্রেন—প্রায় প্রতিটি বড় সংঘাতের পেছনেই পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে পরমাণু অস্ত্রের হুমকি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান শেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এর ফলে গত অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পর এই প্রথম দুই দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক আইনি সীমাবদ্ধতা আর থাকল না। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা।

এর আগে গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন চাইলে আরও এক বছরের জন্য রাশিয়া নিউ স্টার্ট চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, চীনকেও এই চুক্তির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু বেইজিং সে প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

রাশিয়া জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি। ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উষাকভ বলেন, “রাশিয়া বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেবে।”

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ নিউ স্টার্ট চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশকে সর্বোচ্চ ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান এবং ১ হাজার ৫৫০টি মোতায়েনযোগ্য পারমাণবিক ওয়ারহেডে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।

চুক্তির অবসানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পরমাণু যুদ্ধবিরোধী শেষ চুক্তি শেষ , বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পারমাণবিক উদ্বেগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একটির পর একটি যুদ্ধ বিশ্বকে অস্থির করে তুলছে। গাজা থেকে ইউক্রেন—প্রায় প্রতিটি বড় সংঘাতের পেছনেই পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে পরমাণু অস্ত্রের হুমকি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান শেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এর ফলে গত অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পর এই প্রথম দুই দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক আইনি সীমাবদ্ধতা আর থাকল না। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা।

এর আগে গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন চাইলে আরও এক বছরের জন্য রাশিয়া নিউ স্টার্ট চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, চীনকেও এই চুক্তির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু বেইজিং সে প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

রাশিয়া জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি। ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উষাকভ বলেন, “রাশিয়া বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেবে।”

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ নিউ স্টার্ট চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশকে সর্বোচ্চ ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান এবং ১ হাজার ৫৫০টি মোতায়েনযোগ্য পারমাণবিক ওয়ারহেডে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।

চুক্তির অবসানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।