ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিকে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, যেভাবে নির্ধারিত হবে শিক্ষার্থীদের ফল

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ফল নির্ধারণে চালু হচ্ছে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, যেখানে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি গুরুত্ব পাবে শিক্ষার্থীর নিয়মিত শেখার অগ্রগতি, আচরণ ও দক্ষতা।

নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সব বিষয়ে ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০:৫০। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীর মোট ফলাফলের অর্ধেক নির্ভর করবে শ্রেণিকক্ষে তার সার্বিক অংশগ্রহণ ও শেখার ধারাবাহিক অগ্রগতির ওপর, আর বাকি অর্ধেক আসবে নির্ধারিত সময়ের পরীক্ষার ফল থেকে।

অন্যদিকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে সামান্য ভিন্ন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ রাখা হয়েছে। এতে পরীক্ষার গুরুত্ব থাকলেও, শিক্ষার্থীর নিয়মিত শেখার প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা হবে না।

ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ, বাড়ির কাজ, দলগত কার্যক্রম, আচরণগত পরিবর্তন, দক্ষতা ও আগ্রহ—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হবে। শিক্ষকরা পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়ে শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে এই মূল্যায়ন করবেন।

আর সামষ্টিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় শেষে নেওয়া পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও সামগ্রিক অর্জন যাচাই করা হবে। দুই ধরনের মূল্যায়নের সমন্বয়েই প্রতিটি শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হবে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তবভিত্তিক শেখা নিশ্চিত করা। নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা শুধু নম্বরের পেছনে না ছুটে শেখার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এই পরিমার্জিত মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীবান্ধব ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চাইলে আপনি এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত ফিচার বা ব্যাখ্যামূলক ইনফোগ্রাফিক স্টাইলেও রূপ দিতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রাথমিকে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, যেভাবে নির্ধারিত হবে শিক্ষার্থীদের ফল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ফল নির্ধারণে চালু হচ্ছে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, যেখানে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি গুরুত্ব পাবে শিক্ষার্থীর নিয়মিত শেখার অগ্রগতি, আচরণ ও দক্ষতা।

নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সব বিষয়ে ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০:৫০। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীর মোট ফলাফলের অর্ধেক নির্ভর করবে শ্রেণিকক্ষে তার সার্বিক অংশগ্রহণ ও শেখার ধারাবাহিক অগ্রগতির ওপর, আর বাকি অর্ধেক আসবে নির্ধারিত সময়ের পরীক্ষার ফল থেকে।

অন্যদিকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে সামান্য ভিন্ন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ রাখা হয়েছে। এতে পরীক্ষার গুরুত্ব থাকলেও, শিক্ষার্থীর নিয়মিত শেখার প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা হবে না।

ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ, বাড়ির কাজ, দলগত কার্যক্রম, আচরণগত পরিবর্তন, দক্ষতা ও আগ্রহ—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হবে। শিক্ষকরা পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়ে শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে এই মূল্যায়ন করবেন।

আর সামষ্টিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় শেষে নেওয়া পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও সামগ্রিক অর্জন যাচাই করা হবে। দুই ধরনের মূল্যায়নের সমন্বয়েই প্রতিটি শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হবে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তবভিত্তিক শেখা নিশ্চিত করা। নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা শুধু নম্বরের পেছনে না ছুটে শেখার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এই পরিমার্জিত মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীবান্ধব ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চাইলে আপনি এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত ফিচার বা ব্যাখ্যামূলক ইনফোগ্রাফিক স্টাইলেও রূপ দিতে পারেন।