স্বর্ণের দামে লাগামহীন উত্থান: কারণ, প্রভাব ও সামনে কী?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। চলতি বছরের শুরু থেকেই দফায় দফায় দাম সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় এটি নতুন এক রেকর্ডমূল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।
দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ
বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াই দাম বাড়ানোর প্রধান কারণ। তবে এর পেছনে আরও কয়েকটি কাঠামোগত বিষয় কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম তুলনামূলক উচ্চ অবস্থানে রয়েছে, একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার ও আমদানি ব্যয়ও স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে স্বর্ণের কাঁচামালের বড় একটি অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব সরাসরি স্থানীয় দামে প্রতিফলিত হচ্ছে।
ঘন ঘন সমন্বয়: কী ইঙ্গিত দিচ্ছে
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে—এর মধ্যে ১৪ বার দাম বেড়েছে। এত ঘন ঘন পরিবর্তন বাজারের অস্থিরতাকেই তুলে ধরে। সোমবার দাম কমানোর পরের দিনই আবার বাড়ানো হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে বাজারে স্থিতিশীলতা এখনো আসেনি।
ক্রেতা ও জুয়েলারি বাজারে প্রভাব
দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়বে। ভ্যাট ও মজুরি যোগ হলে গয়নার প্রকৃত মূল্য আরও বেশি দাঁড়ায়, ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা কেনাকাটা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। এর প্রভাব পড়তে পারে জুয়েলারি ব্যবসার বিক্রির ওপরও। অন্যদিকে, বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ কিছুটা বাড়তে পারে, কারণ অনেকে এটিকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখেন।
সামনে কী হতে পারে
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ও বৈদেশিক মুদ্রার গতিপথের ওপর নির্ভর করেই দেশের স্বর্ণবাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
সারকথা, স্বর্ণের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি দিনের সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৈশ্বিক ও স্থানীয় বাজারচাপের সম্মিলিত ফল। স্থিতিশীলতা না এলে সামনে আরও সমন্বয়ের মুখে পড়তে পারে দেশের স্বর্ণবাজার।

























