ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ শিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

২৬ জানুয়ারি (সোমবার) এক যৌথ প্রতিবাদবার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যখন স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কারের লক্ষ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নামধারী সন্ত্রাসীদের এমন কর্মকাণ্ড চরম হতাশাজনক। গতকাল লালমনিরহাট, মনোহরগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও শরীয়তপুরসহ ছয়টি স্থানে মা-বোনদের ওপর যে বর্বর হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনো সভ্য রাজনৈতিক পরিবেশের পরিচয় বহন করে না। বিশেষ করে লালমনিরহাটে একজন সম্মানিত নারীর হিজাব টেনে খোলার যে ধৃষ্টতা যুবদল নেতা দেখিয়েছে, তা কেবল ঐ নারীর ওপর আ ক্রমণ নয়, বরং সমগ্র নারীজাতির মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করার শামিল। আজও টাঙ্গাইলে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, তারা পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, “নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি বিএনপি ও ছাত্রদলের নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতেও তারা ধারাবাহিকভাবে নারীদের সম্মানহানি করে আসছে। ২০০২ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন্নাহার সনি হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ও রোকেয়া হলে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের কলঙ্কিত ইতিহাস তাদের রয়েছে। শুধু তাই নয়, অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেড় বছরে প্রায় অর্ধশতাধিক ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও নারীদের কুরআন বিতরণ ও তালিমে হামলাসহ ইতোমধ্যে শতাধিক স্থানে পর্দানশিন নারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বিএনপি যুবদল সন্ত্রাসীরা। যারা মা-বোনদের সম্মান দিতে পারে না, তারা কখনো দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।”

সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “উদ্বেগের বিষয় হলো, এক দিনে ছয়টি স্থানে নারীদের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলা চললেও মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর রহস্যজনক নীরবতা এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ততা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের রাজনীতি এদেশের ছাত্রসমাজ বরদাস্ত করবে না। হিজাব ও পর্দানশিন নারীদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের মূলে কুঠারাঘাত। আমরা এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা অনতিবিলম্বে লালমনিরহাটের হিজাব অবমাননাকারী সন্ত্রাসীসহ সকল হামলাকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নারীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ শিবিরের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

২৬ জানুয়ারি (সোমবার) এক যৌথ প্রতিবাদবার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যখন স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কারের লক্ষ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নামধারী সন্ত্রাসীদের এমন কর্মকাণ্ড চরম হতাশাজনক। গতকাল লালমনিরহাট, মনোহরগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও শরীয়তপুরসহ ছয়টি স্থানে মা-বোনদের ওপর যে বর্বর হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনো সভ্য রাজনৈতিক পরিবেশের পরিচয় বহন করে না। বিশেষ করে লালমনিরহাটে একজন সম্মানিত নারীর হিজাব টেনে খোলার যে ধৃষ্টতা যুবদল নেতা দেখিয়েছে, তা কেবল ঐ নারীর ওপর আ ক্রমণ নয়, বরং সমগ্র নারীজাতির মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করার শামিল। আজও টাঙ্গাইলে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, তারা পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, “নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি বিএনপি ও ছাত্রদলের নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতেও তারা ধারাবাহিকভাবে নারীদের সম্মানহানি করে আসছে। ২০০২ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন্নাহার সনি হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ও রোকেয়া হলে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের কলঙ্কিত ইতিহাস তাদের রয়েছে। শুধু তাই নয়, অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেড় বছরে প্রায় অর্ধশতাধিক ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও নারীদের কুরআন বিতরণ ও তালিমে হামলাসহ ইতোমধ্যে শতাধিক স্থানে পর্দানশিন নারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বিএনপি যুবদল সন্ত্রাসীরা। যারা মা-বোনদের সম্মান দিতে পারে না, তারা কখনো দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।”

সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “উদ্বেগের বিষয় হলো, এক দিনে ছয়টি স্থানে নারীদের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলা চললেও মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর রহস্যজনক নীরবতা এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ততা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের রাজনীতি এদেশের ছাত্রসমাজ বরদাস্ত করবে না। হিজাব ও পর্দানশিন নারীদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের মূলে কুঠারাঘাত। আমরা এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা অনতিবিলম্বে লালমনিরহাটের হিজাব অবমাননাকারী সন্ত্রাসীসহ সকল হামলাকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”