ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কমলার চেয়েও চারগুণ বেশি ভিটামিন সি! হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমরা যখন বাজারে যাই, চোখের সামনে দিয়ে কত ফলই চলে যায়। দামি আম, আপেলের ভিড়ে কোথাও এক কোণায় পড়ে থাকে পেয়ারার ঝুড়ি। কেউ কেউ কিনে নেয়—বেশিরভাগই না দেখেই চলে যায়। অথচ এই সাধারণ ফলটির ভেতর লুকিয়ে আছে এমন গুণ, যা আধুনিক বিশেষজ্ঞদের চোখে যেকোনো দামী সুপারফুডের সমান শক্তিশালী!

ভারতের মতো দেশে পেয়ারা এমনই ফল, যা প্রায় প্রতিটি বাড়ির টেবিলে বা বাগানের কোনে সহজেই পাওয়া যায়। সামান্য দামে, সারাবছর পাওয়া যায়—কিন্তু এর চিকিৎসাগত মূল্য অসাধারণ। নিয়মিত পেয়ারার অভ্যাস হৃদরোগ থেকে ডায়াবেটিস, এমনকি উচ্চ রক্তচাপ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত অসুখের ঝুঁকি কমাতে পারে—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. শুভম বাৎস্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওতে বলছিলেন—একটা পেয়ারায় কমলার চেয়ে চারগুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে! ভিটামিন সি শুধু রোগ প্রতিরোধই বাড়ায় না, রক্তনালিকাকে সুস্থ রাখে এবং ধমনীর ভেতরে যে চর্বি জমে হৃদরোগ তৈরি করে, সেটিও কমাতে সাহায্য করে। এ কারণেই তিনি বললেন, দৈনন্দিন টিফিনে পেয়ারা থাকলে হৃদয়ের ওপর চাপ কমে, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।

শুধু হার্ট নয়—ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও পেয়ারা যেন আশীর্বাদ। কারণ এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, ফলে এটি হঠাৎ করে রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয় না। শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতাও বৃদ্ধি করে, যা টাইপ–২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ নিজের রোগীদের বলেন—“ফল খেতে চাইলে পেয়ারা সবচেয়ে নিরাপদ।”

এর সঙ্গে আছে পাচনশক্তি বাড়ানোর গুণ। খাদ্যআঁশে ভরপুর পেয়ারা অন্ত্রকে সক্রিয় রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমায়। যারা বছরের পর বছর পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের অনেকেই জানেন না—রোজ একটা পেয়ারা কত কিছু বদলে দিতে পারে।

আরও একটি মিলেমিশে থাকা গুণ হলো পটাশিয়াম। এটি শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। ফলে কিডনি ও হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমে যায়।

সবশেষে আছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারটা। পেয়ারা ভরপুর লাইকোপিন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এগুলো ফ্রি-র‍্যাডিক্যাল নামের ক্ষতিকর কণাকে প্রতিহত করে—যা ত্বক নষ্ট করে, অকাল বার্ধক্য আনে এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডা. বাৎস্য মজার একটা তুলনাও করেছেন—আমের মৌসুমে যেমন সবাই আমের দিকে ঝুঁকে পড়ে, সেই গুরুত্ব যদি পেয়ারা সারাবছর পায়, তাহলে ভারতের পুষ্টি পরিস্থিতিই বদলে যেতে পারে। কারণ পেয়ারা শুধু সস্তা নয়, সহজলভ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা—অসাধারণভাবে কার্যকর।

সব মিলিয়ে পেয়ারা যেন চুপচাপ, বিনয়ী এক নায়ক—যাকে আমরা প্রায়ই অবহেলা করি। অথচ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটু জায়গা দিলে সে হয়তো আমাদের হৃদয়, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হজম—সবকিছুরই খেয়াল রাখতে পারে।

সুপারফুড মানেই দামী কিছু হতে হবে—এ ধারণা তাই ভুল। কখনো কখনো পরিবর্তন শুরু হয় সবচেয়ে সাধারণ জিনিস থেকেই—এক মুঠো পেয়ারার মতো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কমলার চেয়েও চারগুণ বেশি ভিটামিন সি! হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আমরা যখন বাজারে যাই, চোখের সামনে দিয়ে কত ফলই চলে যায়। দামি আম, আপেলের ভিড়ে কোথাও এক কোণায় পড়ে থাকে পেয়ারার ঝুড়ি। কেউ কেউ কিনে নেয়—বেশিরভাগই না দেখেই চলে যায়। অথচ এই সাধারণ ফলটির ভেতর লুকিয়ে আছে এমন গুণ, যা আধুনিক বিশেষজ্ঞদের চোখে যেকোনো দামী সুপারফুডের সমান শক্তিশালী!

ভারতের মতো দেশে পেয়ারা এমনই ফল, যা প্রায় প্রতিটি বাড়ির টেবিলে বা বাগানের কোনে সহজেই পাওয়া যায়। সামান্য দামে, সারাবছর পাওয়া যায়—কিন্তু এর চিকিৎসাগত মূল্য অসাধারণ। নিয়মিত পেয়ারার অভ্যাস হৃদরোগ থেকে ডায়াবেটিস, এমনকি উচ্চ রক্তচাপ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত অসুখের ঝুঁকি কমাতে পারে—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. শুভম বাৎস্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওতে বলছিলেন—একটা পেয়ারায় কমলার চেয়ে চারগুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে! ভিটামিন সি শুধু রোগ প্রতিরোধই বাড়ায় না, রক্তনালিকাকে সুস্থ রাখে এবং ধমনীর ভেতরে যে চর্বি জমে হৃদরোগ তৈরি করে, সেটিও কমাতে সাহায্য করে। এ কারণেই তিনি বললেন, দৈনন্দিন টিফিনে পেয়ারা থাকলে হৃদয়ের ওপর চাপ কমে, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।

শুধু হার্ট নয়—ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও পেয়ারা যেন আশীর্বাদ। কারণ এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, ফলে এটি হঠাৎ করে রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয় না। শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতাও বৃদ্ধি করে, যা টাইপ–২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ নিজের রোগীদের বলেন—“ফল খেতে চাইলে পেয়ারা সবচেয়ে নিরাপদ।”

এর সঙ্গে আছে পাচনশক্তি বাড়ানোর গুণ। খাদ্যআঁশে ভরপুর পেয়ারা অন্ত্রকে সক্রিয় রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমায়। যারা বছরের পর বছর পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের অনেকেই জানেন না—রোজ একটা পেয়ারা কত কিছু বদলে দিতে পারে।

আরও একটি মিলেমিশে থাকা গুণ হলো পটাশিয়াম। এটি শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। ফলে কিডনি ও হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমে যায়।

সবশেষে আছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারটা। পেয়ারা ভরপুর লাইকোপিন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এগুলো ফ্রি-র‍্যাডিক্যাল নামের ক্ষতিকর কণাকে প্রতিহত করে—যা ত্বক নষ্ট করে, অকাল বার্ধক্য আনে এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডা. বাৎস্য মজার একটা তুলনাও করেছেন—আমের মৌসুমে যেমন সবাই আমের দিকে ঝুঁকে পড়ে, সেই গুরুত্ব যদি পেয়ারা সারাবছর পায়, তাহলে ভারতের পুষ্টি পরিস্থিতিই বদলে যেতে পারে। কারণ পেয়ারা শুধু সস্তা নয়, সহজলভ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা—অসাধারণভাবে কার্যকর।

সব মিলিয়ে পেয়ারা যেন চুপচাপ, বিনয়ী এক নায়ক—যাকে আমরা প্রায়ই অবহেলা করি। অথচ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটু জায়গা দিলে সে হয়তো আমাদের হৃদয়, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হজম—সবকিছুরই খেয়াল রাখতে পারে।

সুপারফুড মানেই দামী কিছু হতে হবে—এ ধারণা তাই ভুল। কখনো কখনো পরিবর্তন শুরু হয় সবচেয়ে সাধারণ জিনিস থেকেই—এক মুঠো পেয়ারার মতো।