ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে মৃত্যুদণ্ড
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার দরপতন, দমনমূলক নীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকটকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানসহ নানা শহরে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এখন পর্যন্ত অন্তত আড়াই হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
এমন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। গত সপ্তাহে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ মোবাহেদি আজাদ হুঁশিয়ারি দেন, ভবিষ্যতে বিক্ষোভে অংশ নিলেই সংশ্লিষ্টদের “ঈশ্বরের শত্রু” হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এমনকি বিক্ষোভকারীদের সহযোগিতা করলেও একই শাস্তি কার্যকর করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে, সরকারের প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে। ২৬ বছর বয়সী ইরফান সোলতানিকে ৮ জানুয়ারি রাজধানীর শহরতলি কারাজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তাঁর রায়ের ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ববর্তী রাজনৈতিক মামলাগুলোর মতো গুলিতে মৃত্যুদণ্ড নয়, বরং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁর সাজা কার্যকর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সাজা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এক প্রতীকী ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ তুলেছে, সোলতানিকে ন্যূনতম আইনি সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁকে আইনজীবী নিয়োগ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে কোনো তথ্যও জানানো হয়নি।
ইরানে গত কয়েক সপ্তাহে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রবল দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব মতে, এখন পর্যন্ত সংঘর্ষ-সহিংসবলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ জনে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে চলমান আন্দোলনের পেছনে অর্থনৈতিক সংকট যতটা ভূমিকা রাখছে, তার চেয়েও গভীর রয়েছে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক ক্ষোভ। সরকারের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।





















