ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তীব্র শৈতপ্রবাহে রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু, ৯ জনই শিশু

রংপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুর মহানগরীসহ বিভাগের পাঁচ জেলায় গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত তীব্র শৈতপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রচণ্ড শীতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কাহিল হয়ে পড়েছেন। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ।

গত এক সপ্তাহে রংপুর অঞ্চলে শীতজনিত রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। এর মধ্যে ৯ জনই শিশু। বর্তমানে শুধু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী প্রায় ৭ শতাধিক নারী-পুরুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

cold 1

সোমবার (৫ জানুয়ারি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শিশু ও ৭ জন বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন। তারা সবাই শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অ্যাজমার মতো জটিলতায় ভুগছিলেন।

তিনি আরও জানান, নিহত শিশুদের বয়স ছিল ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এবং বয়স্কদের বয়স ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে। এই দুই বয়সী মানুষ শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এ সময় প্রায় ৩ হাজার শিশু ও দেড় হাজারের বেশি বয়স্ক ব্যক্তি শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার নব্দীগঞ্জ এলাকার সিরাজুল ইসলাম মিয়া জানান, তাঁর দুই বছরের ছেলে মাহিম ইসলাম নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার শিশুটি মারা যায়।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও রংপুর জেলার আট উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী হাসপাতালে আসছেন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রংপুর বিভাগে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। উত্তরের হিমশীতল বাতাসের কারণে এই অঞ্চলে হাড়কাঁপানো শীত পড়েছে, যা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তীব্র শৈতপ্রবাহে রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু, ৯ জনই শিশু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুর মহানগরীসহ বিভাগের পাঁচ জেলায় গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত তীব্র শৈতপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রচণ্ড শীতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কাহিল হয়ে পড়েছেন। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ।

গত এক সপ্তাহে রংপুর অঞ্চলে শীতজনিত রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। এর মধ্যে ৯ জনই শিশু। বর্তমানে শুধু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী প্রায় ৭ শতাধিক নারী-পুরুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

cold 1

সোমবার (৫ জানুয়ারি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শিশু ও ৭ জন বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন। তারা সবাই শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অ্যাজমার মতো জটিলতায় ভুগছিলেন।

তিনি আরও জানান, নিহত শিশুদের বয়স ছিল ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এবং বয়স্কদের বয়স ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে। এই দুই বয়সী মানুষ শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এ সময় প্রায় ৩ হাজার শিশু ও দেড় হাজারের বেশি বয়স্ক ব্যক্তি শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার নব্দীগঞ্জ এলাকার সিরাজুল ইসলাম মিয়া জানান, তাঁর দুই বছরের ছেলে মাহিম ইসলাম নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার শিশুটি মারা যায়।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও রংপুর জেলার আট উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী হাসপাতালে আসছেন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রংপুর বিভাগে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। উত্তরের হিমশীতল বাতাসের কারণে এই অঞ্চলে হাড়কাঁপানো শীত পড়েছে, যা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।