ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবজি–মুরগির দামে নতুন চাপ, তদারকির ঘাটতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বছরের শুরুতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতকালীন সবজি ও মুরগির দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ভরা মৌসুম থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে গড়ে ২০–৩০ টাকা বেড়েছে, সঙ্গে কাঁচামরিচের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পেঁয়াজ ও আলুর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মুরগির বাজারে ব্রয়লার, সোনালি ও লেয়ার—সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে।

এদিকে, ক্রেতারা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ করছেন, আর বিক্রেতারা খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তদারকি না বাড়লে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ ও আলুর দাম স্থিতিশীল থাকলেও শীতকালীন সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০–৪০ টাকা বেড়েছে। কাঁচামরিচের দামও বেড়ে প্রতি কেজি খুচরায় ৮০–১০০ টাকা হয়েছে। মুরগির বাজারে ব্রয়লার ১৭০, সোনালি ২৭০ ও লাল লেয়ার ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, শীত ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

সবজি বিক্রেতা জিহাদ বলেন, ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীতে সবজি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, শিম ৮০, করলা ৬০, বেগুন ৬০ থেকে ৮০, পটোল ১০০, গাজর ৬০, বরবটি ১০০ ও পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতিপিস ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব সবজির দাম গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।

সবজির পাশাপাশি কাঁচামরিচের দামও বাড়তি রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম রয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে পেঁয়াজ ও আলুর বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা নেই। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৬০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজও প্রায় একই দামে পাওয়া যাচ্ছে। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০ টাকায়, যা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির।

সবজির সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাজারেও দাম বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বর্তমানে কেজিপ্রতি ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগির দামও ৩০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ টাকায়।

মুরগি বিক্রেতারা জানান, খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বাড়ার প্রভাব পড়েছে বাজারে। খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সবজি–মুরগির দামে নতুন চাপ, তদারকির ঘাটতির অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

বছরের শুরুতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতকালীন সবজি ও মুরগির দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ভরা মৌসুম থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে গড়ে ২০–৩০ টাকা বেড়েছে, সঙ্গে কাঁচামরিচের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পেঁয়াজ ও আলুর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মুরগির বাজারে ব্রয়লার, সোনালি ও লেয়ার—সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে।

এদিকে, ক্রেতারা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ করছেন, আর বিক্রেতারা খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তদারকি না বাড়লে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ ও আলুর দাম স্থিতিশীল থাকলেও শীতকালীন সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০–৪০ টাকা বেড়েছে। কাঁচামরিচের দামও বেড়ে প্রতি কেজি খুচরায় ৮০–১০০ টাকা হয়েছে। মুরগির বাজারে ব্রয়লার ১৭০, সোনালি ২৭০ ও লাল লেয়ার ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, শীত ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

সবজি বিক্রেতা জিহাদ বলেন, ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীতে সবজি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, শিম ৮০, করলা ৬০, বেগুন ৬০ থেকে ৮০, পটোল ১০০, গাজর ৬০, বরবটি ১০০ ও পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতিপিস ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব সবজির দাম গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।

সবজির পাশাপাশি কাঁচামরিচের দামও বাড়তি রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম রয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে পেঁয়াজ ও আলুর বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা নেই। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৬০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজও প্রায় একই দামে পাওয়া যাচ্ছে। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০ টাকায়, যা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির।

সবজির সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাজারেও দাম বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বর্তমানে কেজিপ্রতি ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগির দামও ৩০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ টাকায়।

মুরগি বিক্রেতারা জানান, খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বাড়ার প্রভাব পড়েছে বাজারে। খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।