তথ্যে গরমিল: জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, বিএনপির স্থগিত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই আসনের আরও পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে ত্রুটি পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়নপত্র দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, ক্রেডিট কার্ডসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স না থাকায় যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা যায়, তার সিআইবি প্রতিবেদনে প্রায় ২০ বছর আগের একটি ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া দেখানো হয়েছে। যদিও তিনি বকেয়া পরিশোধের প্রমাণপত্র জমা দিয়েছেন, তবে নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না হওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়।
রিটার্নিং অফিসার জানান, এ বিষয়ে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ নির্বাচনী আপিল আদালতে আবেদন করতে পারবেন। বকেয়া পরিশোধসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুনরায় জমা দিলে তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই আসনে যশোর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ইসহকের মনোনয়ন দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকায় বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। স্বাক্ষরের সামঞ্জস্য না থাকায় আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলামের মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।
এ আসনে বিএনএফ প্রার্থী শাসছুল হকের মনোনয়ন পেন্ডিং রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রণী ব্যাংকের আপত্তির কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফিরোজ শাহের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনের মনোনয়নপত্র পেন্ডিং রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য এবং নির্ভরশীল ব্যক্তি (স্ত্রী) সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ত্রুটি সংশোধন করে কাগজপত্র জমা দিলে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এ ছাড়া এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির ও শাজাহান গোলদারের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের কাগজপত্র না থাকায় তাদের প্রার্থিতাও পেন্ডিং রাখা হয়েছে। ত্রুটি সংশোধনের জন্য তাদের আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, যেসব কারণে মনোনয়ন বাতিল বা পেন্ডিং রাখা হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন।





















