ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তিস্তা শাসনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চায় তিস্তা পাড়ের মানুষ

আজিজুল বুলু,নীলফামারী
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের আববাহিকা তিস্তার চরে আর তীঁরে বসবাসকারী হাজার-হাজার পরিবার প্রতিবছর বর্ষা মওসুমে তিস্তার কড়াল গ্রাসে সহায়-সম্বল হারিয়ে কাঁধে ঝুলছে ভিক্ষার ঝুলি। দেশের উন্নয়নে আর আমজনতার ভাগ্য উন্নয়নের কান্ডারী দেশ শাসনে সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু’র কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভারত সফর করে এবার চীন সফরের মধ্যে দিয়ে রাক্ষুসী তিস্তা শাসনে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সমাধান চায় তিস্তা পাড়ের মানুষজন।

শ্রোতম্বীনি তিস্তা অববাহিকার উৎপত্তিস্থল ভারতের সিকিম হিমালয়ের চিতামু নদ থেকে। এই অববাহিকা তিস্তা গতিপথ ৩০৯ কিলোমিটার এর মধ্যে ভারতের ১৯৫ কিলোমিটার পথের জলপাইগুড়ি জেলার মেকলিগঞ্জ থানা সীমান্ত অতিক্রম করে।বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পৃর্বছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তিস্তার প্রবেশ করে।

১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় তিস্তা গতিপথ পরিবর্তন করে লালমনির হাট,রংপুর,কুড়িগ্রাম ও গাইবন্ধা জেলার চিলমারি বন্দরের দক্ষিণে ব্রম্যপুত্র নদের মোহনায় মিলিত হয়।এই তিস্তা রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার ১১৫ কিলোমিটারে প্রবাহিত হ্চ্ছে।বন্যার পৃর্বে তিস্তা নদী এক সময় গঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।ূএখন বুড়িতিস্তা নামে পরিচিত। ৫০ দশকে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর জেলায় খাদ্যাভাবে মানুষ মূত্যবরণ করতো।এ সময় এ অঞ্চলে প্রাকৃতি দর্যোগের-প্রচন্ড খরতাপে ফসল উৎপাদন হতো চাহির তুলনায় অপ্রতুল।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে ১৯৭৪সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার স্থপতি ও বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের তিস্তা পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহন করেন। তিস্তার পানি শুস্ক মওসুমে আমন ধান উৎপাদনে সম্পুরক সেচ প্রদানে তিস্তা পানির প্রবাহ বন্ঠনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় তিস্তার পানি প্রবাহ চুক্তি হয়।চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়; তিস্তার পানি বাংলাদেশ পাবে ৩৬ শতাংশ আর ভারত পাবে ৩৯ শতাংশ। আর ২৫ শতাংশ তিস্তায় সংরক্ষণ থাকবে।

এ চুক্তির পর নদী শাসনের আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে তিস্তার পানি দখলে ভারত গজলডোবা ব্যারেজ নির্মাণ করে শুস্ক মওসুমে পানি একতরফ প্রত্যাহার নিজ দেশের সেচ নির্ভর ফসল উৎপাদন করছে।আর বর্ষা মওসুমে নিজ দেশের পাহাড়ী ঢলের পানি আর বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গজলডোবা বাঁধের ৫৪টি জলকপাট খুলে দিয়ে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা পাড়ের মানুষের জানমাল-সহায় সম্পদ তিস্তা কড়াল গ্রাসে মুখে ঢেলে দয়।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিস্তা নদী খনন ও শাসন তিস্তা পাড়ের মানুষের মৌলিক ও যৌতিক দাবি বলে মনে করছেন দেশবাসী।বর্ষায় ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের পানি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ইচ্ছায় তিস্তা পানি বাংলাদেশ অংশে বাড়ে কমে বলে মন্তব্য করেছেন নদী বাঁচাও আন্দোলনকারীরা। তারাও তিস্তা নদী শাসনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হউক ভারত-চীন সফরের মধ্যে দিয়ে।গত দু’সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্সণ আর উজান থেকে থেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তায় পানি নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়াবন্যা সতর্কীকরণ পয়েন্টের বিপদসীমার ছুই-ছুই প্রবাহিত হচ্ছে।

আবার কখনো বিপদসীমার ৫০Ñ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি রুদ্রæমুর্তি ধারণ করে তিস্তার তীঁরে প্রচন্ড তোর আঘাত হেনে বিধ্বস্থ করে পানি প্রবেশ করছে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে। এসব পানি বন্দি মানুষজন স্বাভাবিক জীবন যাপনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

তিস্তা তীরবর্তী নীলফামারী,রংপুর,লালমনিরহাট,কুড়িগ্রম ও গাইবান্ধার লাখ-লাখ পরিবার বার্ষায় চরম দুর্ভোগে পড়ে আর শুস্ক মওসুমে তিস্তা পানির অভাবে বালুচরের খরতাপে নাকাল হয়ে পড়ে। তিস্তা নদীর সর্বনাসী খেলা প্রতিরোধে তিস্তা খনন ও শাসনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায় দেখতে চায় তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তিস্তা শাসনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চায় তিস্তা পাড়ের মানুষ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

বাংলাদেশের আববাহিকা তিস্তার চরে আর তীঁরে বসবাসকারী হাজার-হাজার পরিবার প্রতিবছর বর্ষা মওসুমে তিস্তার কড়াল গ্রাসে সহায়-সম্বল হারিয়ে কাঁধে ঝুলছে ভিক্ষার ঝুলি। দেশের উন্নয়নে আর আমজনতার ভাগ্য উন্নয়নের কান্ডারী দেশ শাসনে সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু’র কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভারত সফর করে এবার চীন সফরের মধ্যে দিয়ে রাক্ষুসী তিস্তা শাসনে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সমাধান চায় তিস্তা পাড়ের মানুষজন।

শ্রোতম্বীনি তিস্তা অববাহিকার উৎপত্তিস্থল ভারতের সিকিম হিমালয়ের চিতামু নদ থেকে। এই অববাহিকা তিস্তা গতিপথ ৩০৯ কিলোমিটার এর মধ্যে ভারতের ১৯৫ কিলোমিটার পথের জলপাইগুড়ি জেলার মেকলিগঞ্জ থানা সীমান্ত অতিক্রম করে।বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পৃর্বছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তিস্তার প্রবেশ করে।

১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় তিস্তা গতিপথ পরিবর্তন করে লালমনির হাট,রংপুর,কুড়িগ্রাম ও গাইবন্ধা জেলার চিলমারি বন্দরের দক্ষিণে ব্রম্যপুত্র নদের মোহনায় মিলিত হয়।এই তিস্তা রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার ১১৫ কিলোমিটারে প্রবাহিত হ্চ্ছে।বন্যার পৃর্বে তিস্তা নদী এক সময় গঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।ূএখন বুড়িতিস্তা নামে পরিচিত। ৫০ দশকে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর জেলায় খাদ্যাভাবে মানুষ মূত্যবরণ করতো।এ সময় এ অঞ্চলে প্রাকৃতি দর্যোগের-প্রচন্ড খরতাপে ফসল উৎপাদন হতো চাহির তুলনায় অপ্রতুল।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে ১৯৭৪সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার স্থপতি ও বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের তিস্তা পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহন করেন। তিস্তার পানি শুস্ক মওসুমে আমন ধান উৎপাদনে সম্পুরক সেচ প্রদানে তিস্তা পানির প্রবাহ বন্ঠনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় তিস্তার পানি প্রবাহ চুক্তি হয়।চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়; তিস্তার পানি বাংলাদেশ পাবে ৩৬ শতাংশ আর ভারত পাবে ৩৯ শতাংশ। আর ২৫ শতাংশ তিস্তায় সংরক্ষণ থাকবে।

এ চুক্তির পর নদী শাসনের আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে তিস্তার পানি দখলে ভারত গজলডোবা ব্যারেজ নির্মাণ করে শুস্ক মওসুমে পানি একতরফ প্রত্যাহার নিজ দেশের সেচ নির্ভর ফসল উৎপাদন করছে।আর বর্ষা মওসুমে নিজ দেশের পাহাড়ী ঢলের পানি আর বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গজলডোবা বাঁধের ৫৪টি জলকপাট খুলে দিয়ে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা পাড়ের মানুষের জানমাল-সহায় সম্পদ তিস্তা কড়াল গ্রাসে মুখে ঢেলে দয়।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিস্তা নদী খনন ও শাসন তিস্তা পাড়ের মানুষের মৌলিক ও যৌতিক দাবি বলে মনে করছেন দেশবাসী।বর্ষায় ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের পানি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ইচ্ছায় তিস্তা পানি বাংলাদেশ অংশে বাড়ে কমে বলে মন্তব্য করেছেন নদী বাঁচাও আন্দোলনকারীরা। তারাও তিস্তা নদী শাসনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হউক ভারত-চীন সফরের মধ্যে দিয়ে।গত দু’সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্সণ আর উজান থেকে থেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তায় পানি নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়াবন্যা সতর্কীকরণ পয়েন্টের বিপদসীমার ছুই-ছুই প্রবাহিত হচ্ছে।

আবার কখনো বিপদসীমার ৫০Ñ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি রুদ্রæমুর্তি ধারণ করে তিস্তার তীঁরে প্রচন্ড তোর আঘাত হেনে বিধ্বস্থ করে পানি প্রবেশ করছে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে। এসব পানি বন্দি মানুষজন স্বাভাবিক জীবন যাপনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

তিস্তা তীরবর্তী নীলফামারী,রংপুর,লালমনিরহাট,কুড়িগ্রম ও গাইবান্ধার লাখ-লাখ পরিবার বার্ষায় চরম দুর্ভোগে পড়ে আর শুস্ক মওসুমে তিস্তা পানির অভাবে বালুচরের খরতাপে নাকাল হয়ে পড়ে। তিস্তা নদীর সর্বনাসী খেলা প্রতিরোধে তিস্তা খনন ও শাসনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায় দেখতে চায় তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার মানুষ।