ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংকটে রপ্তানিখাত, বিকল্প বাজার গড়ার তাগিদ

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ ১৭১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা।

এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এরই মধ্যে ক্রয়াদেশ পাওয়া দেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা। তারা বলছেন, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প বাজার তৈরিতে শক্তিশালী নীতি প্রনয়ণের দাবি তাদের।

ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের তথ্য মতে, বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে ১০.৬ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে ৮.৪ বিলিয়ন রপ্তানি ও ২.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেশ বড়।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে, এর মধ্যে ৭.২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয় আমেরিকায়, যা একক দেশ হিসেবে পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। সেই বাজারে হঠাৎ বাংলাদেশি পণ্যে ১৫ শতাংশ থেকে ৩৭ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণায় হতবাক পোশাক কারখানা মালিকরা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকায় যেখানে শুল্ক আরও কমানোর কথা ভাবা হয়েছিল, সেখানে উল্টো বেড়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে হতাশা। সবচেয়ে বড় কথা, আগামী কয়েক মাসে আমেরিকায় রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা অন্তত তিন থেকে চার বিলিয়ন ডলারের পোশাক তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন কারখানায়। অনেক রপ্তানি পণ্য আছে শিপমেন্টের অপেক্ষায়। এসব পণ্য বাড়তি শুল্কের আওতায় আসায় তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

বিজিএমইএর সহ সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমাদের যে অর্ডারগুলো গত তিন থেকে চার মাস ধরে রানিংয়ে আছে, তার কিছু পণ্য আমাদের ফ্যাক্টরিতে আছে, কিছু অন দ্যা ওয়েতে আছে। কিছু আবার আমেরিকান পোর্টেও পড়ে আছে। সেগুলো এখন রিলিজ করতে হলে ৩৭ শতাংশ দিতে হবে। আমার বায়ার যদি কাল বলে আমার বাড়তি ডিউ তোমাকে পেমেন্ট করতে হবে না হলে তামার পণ্য আমি নিবো না।

চট্টগ্রাম বিজিএমইএর পরিচালক গাজী মো. শহীদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটা আসলে কূটনৈতিক পর্যায়ে তো আছেই কিন্তু প্রথমত হচ্ছে দেশের যারা পলিছি মেকাররা আছেন তাদের সাথে সরকারের দ্রুত বসা উচিত।

বিজিএমইএর সাবেক সহ সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেখানে ট্যাক্স কম সেখানেই স্বাভাবিকভাবে একটা বায়ার যাবে। তো উচ্চ ট্যাক্সে আমার এখানে আসার কোনো কারণ নেই। কারণ আমসার এখানে আসলেও যে অফার নিয়ে আসবে, সেটি তো আমি কোনোভাবেই অ্যাফোর্ট করতে পারবো না। আমেরিকার সাথে তো ডিপ্লোমেসি নিয়ে কাজ করবেই, এটা কীভাবে রিভিউ করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সংকটে রপ্তানিখাত, বিকল্প বাজার গড়ার তাগিদ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা।

এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এরই মধ্যে ক্রয়াদেশ পাওয়া দেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা। তারা বলছেন, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প বাজার তৈরিতে শক্তিশালী নীতি প্রনয়ণের দাবি তাদের।

ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের তথ্য মতে, বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে ১০.৬ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে ৮.৪ বিলিয়ন রপ্তানি ও ২.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেশ বড়।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে, এর মধ্যে ৭.২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয় আমেরিকায়, যা একক দেশ হিসেবে পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। সেই বাজারে হঠাৎ বাংলাদেশি পণ্যে ১৫ শতাংশ থেকে ৩৭ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণায় হতবাক পোশাক কারখানা মালিকরা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকায় যেখানে শুল্ক আরও কমানোর কথা ভাবা হয়েছিল, সেখানে উল্টো বেড়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে হতাশা। সবচেয়ে বড় কথা, আগামী কয়েক মাসে আমেরিকায় রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা অন্তত তিন থেকে চার বিলিয়ন ডলারের পোশাক তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন কারখানায়। অনেক রপ্তানি পণ্য আছে শিপমেন্টের অপেক্ষায়। এসব পণ্য বাড়তি শুল্কের আওতায় আসায় তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

বিজিএমইএর সহ সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমাদের যে অর্ডারগুলো গত তিন থেকে চার মাস ধরে রানিংয়ে আছে, তার কিছু পণ্য আমাদের ফ্যাক্টরিতে আছে, কিছু অন দ্যা ওয়েতে আছে। কিছু আবার আমেরিকান পোর্টেও পড়ে আছে। সেগুলো এখন রিলিজ করতে হলে ৩৭ শতাংশ দিতে হবে। আমার বায়ার যদি কাল বলে আমার বাড়তি ডিউ তোমাকে পেমেন্ট করতে হবে না হলে তামার পণ্য আমি নিবো না।

চট্টগ্রাম বিজিএমইএর পরিচালক গাজী মো. শহীদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটা আসলে কূটনৈতিক পর্যায়ে তো আছেই কিন্তু প্রথমত হচ্ছে দেশের যারা পলিছি মেকাররা আছেন তাদের সাথে সরকারের দ্রুত বসা উচিত।

বিজিএমইএর সাবেক সহ সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেখানে ট্যাক্স কম সেখানেই স্বাভাবিকভাবে একটা বায়ার যাবে। তো উচ্চ ট্যাক্সে আমার এখানে আসার কোনো কারণ নেই। কারণ আমসার এখানে আসলেও যে অফার নিয়ে আসবে, সেটি তো আমি কোনোভাবেই অ্যাফোর্ট করতে পারবো না। আমেরিকার সাথে তো ডিপ্লোমেসি নিয়ে কাজ করবেই, এটা কীভাবে রিভিউ করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করবে।