ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হান্ডিয়ালে পুকুর খননের সময় উদ্ধার ৪ ফুটের বিষ্ণু মূর্তি সংঘাত নয়, দেশ গঠনের রাজনীতি করতে হবে: নার্গিস বেগম তেল নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই, ৯ মার্চ আসছে দুই জাহাজ ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে যাওয়ার পথে চারজন গ্রেপ্তার মাটির নিচে ট্যাংকিতে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত, ব্যবসায়ীকে জরিমানা পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য কমানো সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী মীনা আইভিএফ ও প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ঘোষণা ছাড়াই জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ, ব্যবসায়ীরা উধাও নোয়াখালীতে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরী, দুই ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা নোয়াখালীতে বিদেশি পিস্তলসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

১১ মাসের শিশুকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা

শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪ ১৮১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরের ঝিকরগাছায় স্ত্রীর ওপর অভিমানে ১১ মাসের শিশুকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বাবা ইমামুল হোসেন (২৮)। নিহত ইমামুল জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার শরীফপুর গ্রামের আমজাদ গাজীর ছেলে।

পুলিশ বলছে ,রোববার (১১ আগস্ট) রাতে ১০টার দিকে বসতঘরের ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ইমামুল আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয়রা জানান, ইমামুল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকতেন। তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (২৩) কে তার পিতার বাড়িতে যেতে দিতেন না। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী মমতাজ ও ইমামুলের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে ইমামুলের স্ত্রী মমতাজ জোর পূর্বক শিশু আইমানকে তার বাবা ইমামুলের কাছে রেখে বাবার বাড়ি হাড়িয়া গ্রামে চলে যান। মায়ের অনুপস্থিতির কারণে শিশু বাচ্চাটি দুধের জন্য কান্নাকাটি শুরু করে। কান্না থামাতে না পেরে বাবা ইমামুল শিশু আইমানকে গলাটিপে হত্যা করে। এরপর বাবা ইমামুল রাতের কোন এক সময়ে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

ইমামুলের মা রহিমা বেগম বলেন, গতকালকে (রোবববার) আমার পুত্রবধূ মমতাজ বেগম আর ছেলে ইমামুল দু’জনে পুত্রবধূ বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে গন্ডগোল করে। একপর্যায়ে ছোট্ট শিশুটিকে ফেলে রেখে সে বাবার বাড়িতে চলে যায়। দিনের বেলায় আমি নাতিকে খাওয়া দাওয়া করায়ে কোন রকম রেখেছিলাম। রাতে আমার নাতিকে নিয়ে আমার ছেলে ইমামুল ঘুমায়। সকালে উঠে দেখি আমার ছেলের মরদেহটি ঘরের মধ্যে রশিতে ঝুলছে। পাশে বিছানায় আমার নাতি আইমানের মরদেহ পড়ে আছে।

ঝিকরগাছা থানার ওসি কামাল হোসেন ভূইয়া জানান, সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জানতে পারলাম পারিবারিক কলহের জেরে ইমামুল আত্মহত্যা করেছে। ইমামুলের ঘরে তার ছোট্ট শিশু সন্তান আইমানকেও মৃত অবস্থায় পেয়েছি।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর ওপর অভিমান করে শিশুটিকে রেখে তার মা মমতাজ বেগম বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ায় সে বাচ্চাটিকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছে। দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

১১ মাসের শিশুকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪

যশোরের ঝিকরগাছায় স্ত্রীর ওপর অভিমানে ১১ মাসের শিশুকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বাবা ইমামুল হোসেন (২৮)। নিহত ইমামুল জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার শরীফপুর গ্রামের আমজাদ গাজীর ছেলে।

পুলিশ বলছে ,রোববার (১১ আগস্ট) রাতে ১০টার দিকে বসতঘরের ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ইমামুল আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয়রা জানান, ইমামুল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকতেন। তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (২৩) কে তার পিতার বাড়িতে যেতে দিতেন না। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী মমতাজ ও ইমামুলের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে ইমামুলের স্ত্রী মমতাজ জোর পূর্বক শিশু আইমানকে তার বাবা ইমামুলের কাছে রেখে বাবার বাড়ি হাড়িয়া গ্রামে চলে যান। মায়ের অনুপস্থিতির কারণে শিশু বাচ্চাটি দুধের জন্য কান্নাকাটি শুরু করে। কান্না থামাতে না পেরে বাবা ইমামুল শিশু আইমানকে গলাটিপে হত্যা করে। এরপর বাবা ইমামুল রাতের কোন এক সময়ে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

ইমামুলের মা রহিমা বেগম বলেন, গতকালকে (রোবববার) আমার পুত্রবধূ মমতাজ বেগম আর ছেলে ইমামুল দু’জনে পুত্রবধূ বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে গন্ডগোল করে। একপর্যায়ে ছোট্ট শিশুটিকে ফেলে রেখে সে বাবার বাড়িতে চলে যায়। দিনের বেলায় আমি নাতিকে খাওয়া দাওয়া করায়ে কোন রকম রেখেছিলাম। রাতে আমার নাতিকে নিয়ে আমার ছেলে ইমামুল ঘুমায়। সকালে উঠে দেখি আমার ছেলের মরদেহটি ঘরের মধ্যে রশিতে ঝুলছে। পাশে বিছানায় আমার নাতি আইমানের মরদেহ পড়ে আছে।

ঝিকরগাছা থানার ওসি কামাল হোসেন ভূইয়া জানান, সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জানতে পারলাম পারিবারিক কলহের জেরে ইমামুল আত্মহত্যা করেছে। ইমামুলের ঘরে তার ছোট্ট শিশু সন্তান আইমানকেও মৃত অবস্থায় পেয়েছি।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর ওপর অভিমান করে শিশুটিকে রেখে তার মা মমতাজ বেগম বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ায় সে বাচ্চাটিকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছে। দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।